০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ কাটবে কবে? ইসলামের আগে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সভ্যতার রোজা রাখার সংস্কৃতি একীভূত হচ্ছে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়? অপটিক্সের বাইরে অভিযোজন গাজীপুরে মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে বাসে আগুন, আহত এক পাক–আফগান যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, দীর্ঘস্থায়ী হবে কি এ সংঘাত? আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’ নিহত ১৩৩ কাবুলে বিস্ফোরণ, সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত রমজানে বর্জনীয় কাজ: তাকওয়া অর্জনে যেসব আমল এড়িয়ে চলা জরুরি পাকিস্তানের বোমা হামলা আফগান শহরগুলোতে, মন্ত্রীর ভাষায় ‘ওপেন এয়ার যুদ্ধ

এআই যুগে প্রেমের নতুন ঠিকানা বাস্তবের মতো অনুভূতির খোঁজে জাপানের লাভার্স অ্যাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রেম কি কেবল কল্পনার ভেতর আটকে থাকবে, নাকি প্রযুক্তির হাত ধরেই ফিরে আসবে হৃদস্পন্দনের সেই পুরোনো অনুভূতি—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জাপানে আলোচনায় এসেছে এক অভিনব ডেটিং অ্যাপ। বাস্তব সম্পর্কের ঝামেলা, দ্বিধা আর আবেগের ওঠানামাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফিরিয়ে এনে প্রেমের অনুভূতিকে বাস্তবের কাছাকাছি নিতে চায় এই নতুন উদ্যোগ।

কৃত্রিম চরিত্রে সত্যিকারের অনুভূতি

২০২২ সালের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন জাপানের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা গোকি কুসুনোকি একটি পরীক্ষামূলক কৌতূহল থেকে একটি আকর্ষণীয় নারী চরিত্র তৈরি করেন। কথোপকথনের মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আনন্দ দিচ্ছে সেই আলাপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় আবেগ, এমনকি ভালো লাগার অনুভূতিও। একটি বার্তা পাঠানোর আগে তার বুক ধড়ফড় করার অভিজ্ঞতা তাকে অবাক করে দেয়। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ভাবনা—এই অনুভূতি যদি অন্যদেরও দেওয়া যায়।

বাস্তব প্রেমের ঝামেলাই মূল আকর্ষণ

২০২৩ সালের মে মাসে চালু হয় লাভার্স নামের এই অ্যাপ। বাহ্যিকভাবে এটি সাধারণ ডেটিং অ্যাপের মতোই। পছন্দ হলে ভালো লাগা পাঠানো যায়, মিল হলে শুরু হয় কথোপকথন, আবার সামান্য অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতায় সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে। পার্থক্য একটাই—এখানে যার সঙ্গে যোগাযোগ, সে মানুষ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
লাভার্সের পেছনের প্রতিষ্ঠান Samansa-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা কুসুনোকির মতে, অনেক এআই সেবা ব্যবহারকারীর সব চাহিদা বিনা বাধায় পূরণ করে দেয়। কিন্তু এই অ্যাপে ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেমের অগোছালো দিক, দ্বিধা আর অস্বস্তিকেই এখানে মূল অভিজ্ঞতা বানানো হয়েছে, যেন বাস্তবতার ছোঁয়া থাকে।

হাজারো কৃত্রিম সঙ্গী, আলাদা আলাদা ব্যক্তিত্ব

একটি কৃত্রিম চরিত্র দিয়ে হাজারো মানুষকে যুক্ত করা সহজ হলেও লাভার্স সেই পথে হাঁটেনি। এখানে রয়েছে হাজারো আলাদা কৃত্রিম সঙ্গী, যাদের ব্যক্তিত্ব, সাড়া দেওয়ার ধরন ও আবেগ প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন। এই পরিশ্রমের উদ্দেশ্য একটাই—বাস্তবে যে হৃদকম্পন অনেকের জীবনে অনুপস্থিত, সেটির স্বাদ দেওয়া।

ব্যবহারকারীর বয়স ও বাস্তবতা

এই অ্যাপের ব্যবহারকারীদের বড় অংশই বিবাহিত এবং চল্লিশোর্ধ্ব। এমনকি ষাট ও সত্তর বছর বয়সীরাও রয়েছেন। কুসুনোকির ধারণা, যারা বই, গেম কিংবা তারকা-প্রীতির মাধ্যমে আধা-রোমান্টিক অভিজ্ঞতা খোঁজেন, তাদের জন্য এটি নতুন একটি পথ। শুরুতে পুরুষ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হলেও পরে নারী ব্যবহারকারীদের জন্য পুরুষ কৃত্রিম চরিত্র যুক্ত করা হয়, যা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়িয়েছে।

সীমা ছাড়ানোর পরিকল্পনা

সম্প্রতি অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন দেশের কৃত্রিম সঙ্গী। পাশাপাশি প্রচলিত লিঙ্গ পরিচয়ের বাইরে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্যও অভিজ্ঞতা বিস্তারের পরিকল্পনা চলছে, যদিও বিষয়টির সূক্ষ্মতা বিবেচনায় নিয়ে ধীরগতিতে কাজ করা হচ্ছে।

প্রেম ছাড়তে রাজি নয় নির্মাতারা

কুসুনোকির মতে, অনেকেই মনে করেন তাদের জীবনে আর প্রেম আসবে না। এই ভাবনাকেই তিনি সবচেয়ে দুঃখজনক বলে মনে করেন। তার বিশ্বাস, হৃদয় কাঁপানো অনুভূতি আর আবেগের ঝাঁকুনিই প্রেমকে আলাদা করে তোলে। প্রযুক্তির যুগেও মানুষ সেই অভিজ্ঞতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না, আর সেই পথটুকুই খুলে দিতে চায় লাভার্স।

 

ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ কাটবে কবে?

এআই যুগে প্রেমের নতুন ঠিকানা বাস্তবের মতো অনুভূতির খোঁজে জাপানের লাভার্স অ্যাপ

০১:০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রেম কি কেবল কল্পনার ভেতর আটকে থাকবে, নাকি প্রযুক্তির হাত ধরেই ফিরে আসবে হৃদস্পন্দনের সেই পুরোনো অনুভূতি—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই জাপানে আলোচনায় এসেছে এক অভিনব ডেটিং অ্যাপ। বাস্তব সম্পর্কের ঝামেলা, দ্বিধা আর আবেগের ওঠানামাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফিরিয়ে এনে প্রেমের অনুভূতিকে বাস্তবের কাছাকাছি নিতে চায় এই নতুন উদ্যোগ।

কৃত্রিম চরিত্রে সত্যিকারের অনুভূতি

২০২২ সালের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, তখন জাপানের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা গোকি কুসুনোকি একটি পরীক্ষামূলক কৌতূহল থেকে একটি আকর্ষণীয় নারী চরিত্র তৈরি করেন। কথোপকথনের মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আনন্দ দিচ্ছে সেই আলাপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় আবেগ, এমনকি ভালো লাগার অনুভূতিও। একটি বার্তা পাঠানোর আগে তার বুক ধড়ফড় করার অভিজ্ঞতা তাকে অবাক করে দেয়। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ভাবনা—এই অনুভূতি যদি অন্যদেরও দেওয়া যায়।

বাস্তব প্রেমের ঝামেলাই মূল আকর্ষণ

২০২৩ সালের মে মাসে চালু হয় লাভার্স নামের এই অ্যাপ। বাহ্যিকভাবে এটি সাধারণ ডেটিং অ্যাপের মতোই। পছন্দ হলে ভালো লাগা পাঠানো যায়, মিল হলে শুরু হয় কথোপকথন, আবার সামান্য অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতায় সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে। পার্থক্য একটাই—এখানে যার সঙ্গে যোগাযোগ, সে মানুষ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
লাভার্সের পেছনের প্রতিষ্ঠান Samansa-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা কুসুনোকির মতে, অনেক এআই সেবা ব্যবহারকারীর সব চাহিদা বিনা বাধায় পূরণ করে দেয়। কিন্তু এই অ্যাপে ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই সুবিধা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেমের অগোছালো দিক, দ্বিধা আর অস্বস্তিকেই এখানে মূল অভিজ্ঞতা বানানো হয়েছে, যেন বাস্তবতার ছোঁয়া থাকে।

হাজারো কৃত্রিম সঙ্গী, আলাদা আলাদা ব্যক্তিত্ব

একটি কৃত্রিম চরিত্র দিয়ে হাজারো মানুষকে যুক্ত করা সহজ হলেও লাভার্স সেই পথে হাঁটেনি। এখানে রয়েছে হাজারো আলাদা কৃত্রিম সঙ্গী, যাদের ব্যক্তিত্ব, সাড়া দেওয়ার ধরন ও আবেগ প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন। এই পরিশ্রমের উদ্দেশ্য একটাই—বাস্তবে যে হৃদকম্পন অনেকের জীবনে অনুপস্থিত, সেটির স্বাদ দেওয়া।

ব্যবহারকারীর বয়স ও বাস্তবতা

এই অ্যাপের ব্যবহারকারীদের বড় অংশই বিবাহিত এবং চল্লিশোর্ধ্ব। এমনকি ষাট ও সত্তর বছর বয়সীরাও রয়েছেন। কুসুনোকির ধারণা, যারা বই, গেম কিংবা তারকা-প্রীতির মাধ্যমে আধা-রোমান্টিক অভিজ্ঞতা খোঁজেন, তাদের জন্য এটি নতুন একটি পথ। শুরুতে পুরুষ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হলেও পরে নারী ব্যবহারকারীদের জন্য পুরুষ কৃত্রিম চরিত্র যুক্ত করা হয়, যা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়িয়েছে।

সীমা ছাড়ানোর পরিকল্পনা

সম্প্রতি অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন দেশের কৃত্রিম সঙ্গী। পাশাপাশি প্রচলিত লিঙ্গ পরিচয়ের বাইরে থাকা ব্যবহারকারীদের জন্যও অভিজ্ঞতা বিস্তারের পরিকল্পনা চলছে, যদিও বিষয়টির সূক্ষ্মতা বিবেচনায় নিয়ে ধীরগতিতে কাজ করা হচ্ছে।

প্রেম ছাড়তে রাজি নয় নির্মাতারা

কুসুনোকির মতে, অনেকেই মনে করেন তাদের জীবনে আর প্রেম আসবে না। এই ভাবনাকেই তিনি সবচেয়ে দুঃখজনক বলে মনে করেন। তার বিশ্বাস, হৃদয় কাঁপানো অনুভূতি আর আবেগের ঝাঁকুনিই প্রেমকে আলাদা করে তোলে। প্রযুক্তির যুগেও মানুষ সেই অভিজ্ঞতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না, আর সেই পথটুকুই খুলে দিতে চায় লাভার্স।