আবুধাবিতে বংশগত রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রথমবারের মতো জিন সম্পাদনাভিত্তিক থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই চিকিৎসা উদ্যোগকে স্বাস্থ্যখাতে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সিকেল সেল রোগ ও থ্যালাসেমিয়ার মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।
জিনগত ত্রুটি সংশোধনে নতুন চিকিৎসা
খলিফা সিটির ইয়াস ক্লিনিক এবং আবুধাবি স্টেম সেলস সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এই থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতির নাম ক্যাসজেভি, যা রোগের মূল কারণ হিসেবে থাকা ত্রুটিপূর্ণ জিন সংশোধনের মাধ্যমে কাজ করে। এই চিকিৎসা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে এবং বারো বছর বা তার বেশি বয়সী গুরুতর সিকেল সেল রোগী ও নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় এমন বিটা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য প্রযোজ্য।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও বীমা সুবিধা
আবুধাবি স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়া এই চিকিৎসা কার্যক্রমের আওতায় যোগ্য রোগীরা বীমা ও ক্ষতিপূরণ কর্মসূচির মাধ্যমে সেবা পাবেন। ফলে ব্যয়বহুল এই উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যেতে হবে না।
আজীবন উপসর্গ নয়, মূল রোগের চিকিৎসা
এই জিন থেরাপির মাধ্যমে রোগের উপসর্গ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সমস্যার উৎসে আঘাত করা হয়। চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় প্রথমে রোগীর স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়, পরে বিশেষ গবেষণাগারে জিনগত ত্রুটি সংশোধন করে সেই কোষ পুনরায় শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সময়ের সঙ্গে রোগীর শরীরে সুস্থ রক্তকণিকা তৈরি হতে শুরু করে।
রোগীদের জন্য নতুন আশা
আবুধাবি স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডারসেক্রেটারি নুরা খামিস আল গাইথি বলেন, এই সফল চিকিৎসা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ঘরে বসেই দেওয়ার ক্ষেত্রে আবুধাবির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এতে রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো তৈরি হয়েছে এবং জটিল চিকিৎসার জন্য বিদেশ নির্ভরতা কমবে। ইয়াস ক্লিনিকের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মাইসুন আল কারাম বলেন, শৈশব থেকেই এই রোগে ভোগা রোগীদের জন্য এটি জীবন বদলে দেওয়ার মতো সুযোগ।
অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাবের সম্ভাবনা
সিকেল সেল ও থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রক্তরোগ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এতদিন এসব রোগীর জীবন কাটত ঘন ঘন হাসপাতালে যাওয়া, রক্ত সঞ্চালন ও ওষুধের ওপর নির্ভর করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও রোগীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে, যা আবুধাবিকে উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















