১২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
চীন প্রভাবেই ধাক্কা: ২০২৬ সালে জাপানে বিদেশি পর্যটক কমার আশঙ্কা পাহাড়ে নীরব প্রত্যাবর্তন: জাবারখেতের বনে বন্যপ্রাণী ও নরম পর্যটনের নতুন পথ হংকংয়ে ইতিহাস গড়ল চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা, তালিকাভুক্তিতেই উঠল বিপুল অর্থ এআই চাহিদার জোয়ারে স্যামসাংয়ের লাভে উল্লম্ফন, এক ত্রৈমাসিকে তিন গুণ সৌদি আরবের শিংওয়ালা মরু সাপ গ্রিনল্যান্ড ঘিরে নতুন কৌশল, বরফ গলার পথে চীনের ছায়া ঠেকাতে ট্রাম্পের তৎপরতা কেরালার কারিগরদের হাতে ফিরল প্রাচীন নৌযানের গৌরব, সমুদ্রে পাড়ি দিল কৌণ্ডিন্য ইউনিক্লোর ঝলমলে বিক্রি, লাভের পূর্বাভাস বাড়াল ফাস্ট রিটেইলিং ঋণের বদলে যুদ্ধবিমান: সৌদি অর্থ সহায়তা রূপ নিতে পারে জেএফ–সতেরো চুক্তিতে গৌর নদী: বরিশালের শিরা-উপশিরায় ভর করে থাকা এক জীবন্ত স্মৃতি

ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় নতুন মোড়, ট্রাম্পের সঙ্গে আবার বৈঠক চান জেলেনস্কি

ইউক্রেনে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেই নতুন কৌশলে এগোচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার সবচেয়ে জটিল দুটি বিষয়—ভূখণ্ড ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে দ্রুত আরেক দফা বৈঠক চান তিনি। লক্ষ্য একটাই, যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অঙ্গীকার আদায়।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি

কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইনে আলাপে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধবিরতি হলে অন্তত পনেরো বছরের জন্য ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারিত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, কেবল রাজনৈতিক আশ্বাস নয়, আইনি ভিত্তিতে কার্যকর নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া শান্তি টেকসই হবে না।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে আহ্বান

জেলেনস্কির অভিযোগ, শান্তি উদ্যোগের মধ্যেও রাশিয়া ইউক্রেনের শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এমন সব উপায় আছে, যেগুলো প্রয়োগ করলে মস্কোর অবস্থান বদলাতে বাধ্য হবে। তাঁর ভাষায়, আমেরিকানরা এখন কার্যকরভাবে কাজ করছে, তবে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে।

আলোচনার বড় বাধা ডনেস্ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বৈঠকে মূলত দুটি ইস্যুই সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। একদিকে পূর্ব ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল ডনেস্ক, অন্যদিকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়া পুরো ডনেস্ক দখল করতে না পারলেও বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ইউক্রেন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের ধারণা আলোচনায় এলেও কিয়েভ এখনো এতে সম্মতি দেয়নি।

FILE PHOTO: View shows Zaporizhzhia Nuclear Power Plant from the bank of Kakhovka Reservoir in Nikopol

বিদ্যুৎকেন্দ্র ইস্যুতেও মতবিরোধ রয়েছে। রাশিয়া কেন্দ্রটি নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করলেও ইউক্রেন যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা থাকা উচিত।

আইনি অঙ্গীকারের অপেক্ষা

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক আলোচনায় ইউক্রেনের মিত্ররা যুদ্ধবিরতি হলে বহুজাতিক সেনা মোতায়েনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে। তবে জেলেনস্কির মতে, এসব এখনো কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার পর্যায়ে আছে, জাতীয় সংসদগুলোর অনুমোদন নিয়ে আইনি অঙ্গীকারে রূপ নেওয়া বাকি।

অতিরিক্ত ছাড় নয়, বার্তা জোরালো

ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি মিত্রদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, আলোচনায় ইউক্রেন তাদের করণীয় সবই করছে, কিন্তু কিয়েভের ওপর নতুন বা অতিরিক্ত কোনো কঠোর শর্ত চাপানো উচিত নয়। তাঁর আশা, সব পক্ষের সদিচ্ছা থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝির মধ্যেই যুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভব।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন প্রভাবেই ধাক্কা: ২০২৬ সালে জাপানে বিদেশি পর্যটক কমার আশঙ্কা

ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় নতুন মোড়, ট্রাম্পের সঙ্গে আবার বৈঠক চান জেলেনস্কি

০১:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইউক্রেনে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেই নতুন কৌশলে এগোচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার সবচেয়ে জটিল দুটি বিষয়—ভূখণ্ড ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—নিয়ে অচলাবস্থা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে দ্রুত আরেক দফা বৈঠক চান তিনি। লক্ষ্য একটাই, যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অঙ্গীকার আদায়।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি

কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনলাইনে আলাপে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধবিরতি হলে অন্তত পনেরো বছরের জন্য ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারিত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, কেবল রাজনৈতিক আশ্বাস নয়, আইনি ভিত্তিতে কার্যকর নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া শান্তি টেকসই হবে না।

রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে আহ্বান

জেলেনস্কির অভিযোগ, শান্তি উদ্যোগের মধ্যেও রাশিয়া ইউক্রেনের শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এমন সব উপায় আছে, যেগুলো প্রয়োগ করলে মস্কোর অবস্থান বদলাতে বাধ্য হবে। তাঁর ভাষায়, আমেরিকানরা এখন কার্যকরভাবে কাজ করছে, তবে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে।

আলোচনার বড় বাধা ডনেস্ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বৈঠকে মূলত দুটি ইস্যুই সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। একদিকে পূর্ব ইউক্রেনের শিল্পাঞ্চল ডনেস্ক, অন্যদিকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়া পুরো ডনেস্ক দখল করতে না পারলেও বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ইউক্রেন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের ধারণা আলোচনায় এলেও কিয়েভ এখনো এতে সম্মতি দেয়নি।

FILE PHOTO: View shows Zaporizhzhia Nuclear Power Plant from the bank of Kakhovka Reservoir in Nikopol

বিদ্যুৎকেন্দ্র ইস্যুতেও মতবিরোধ রয়েছে। রাশিয়া কেন্দ্রটি নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করলেও ইউক্রেন যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব দিয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকা থাকা উচিত।

আইনি অঙ্গীকারের অপেক্ষা

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক আলোচনায় ইউক্রেনের মিত্ররা যুদ্ধবিরতি হলে বহুজাতিক সেনা মোতায়েনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে। তবে জেলেনস্কির মতে, এসব এখনো কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার পর্যায়ে আছে, জাতীয় সংসদগুলোর অনুমোদন নিয়ে আইনি অঙ্গীকারে রূপ নেওয়া বাকি।

অতিরিক্ত ছাড় নয়, বার্তা জোরালো

ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি মিত্রদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, আলোচনায় ইউক্রেন তাদের করণীয় সবই করছে, কিন্তু কিয়েভের ওপর নতুন বা অতিরিক্ত কোনো কঠোর শর্ত চাপানো উচিত নয়। তাঁর আশা, সব পক্ষের সদিচ্ছা থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝির মধ্যেই যুদ্ধের সমাপ্তি সম্ভব।