০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের

শুল্ক কমলেই সংকটে পাহাড়ের আপেল, নিউজিল্যান্ডের সস্তা ফল ভাসাতে পারে দেশীয় বাজার

কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের আপেলচাষিদের মনে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ জমেছে। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যদি আমদানি শুল্ক কমানো হয়, তবে দেশীয় বাজার দ্রুত সস্তা বিদেশি আপেলে ভরে যেতে পারে বলে মনে করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের আপেল উৎপাদন, বিপণন এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পাহাড়ি অর্থনীতির ওপর সরাসরি চাপ পড়বে।

Image

কাশ্মীরের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আপেল
কাশ্মীরে প্রায় পনেরো লক্ষ পরিবার কোনো না কোনোভাবে আপেল উৎপাদন ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। বছরে এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। হিমাচল প্রদেশের চিত্র প্রায় একই রকম। সেখানে আপেল উৎপাদনের বাজার মূল্য পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে এবং দেড় লক্ষের বেশি পরিবার এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই রাজ্যে আপেল শুধু কৃষিপণ্য নয়, বরং জীবিকা ও আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

Image

ঠান্ডা সংরক্ষণ ঘিরে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
চাষি ও আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় আপেল মূলত নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ঠান্ডা সংরক্ষণাগারে রেখে ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া হয়। অফ সিজনে এই আপেল বিক্রির আয়েই বছরের বড় অংশের সংসার চলে বহু পরিবারের। কিন্তু শুল্ক কমলে নিউজিল্যান্ডের তাজা আপেল কম দামে বাজারে ঢুকে পড়বে। তখন সংরক্ষণাগারে রাখা দেশীয় আপেলের ন্যায্য দাম পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। বর্তমানে কাশ্মীর জুড়ে শত শত ঠান্ডা গুদামে বিপুল পরিমাণ আপেল মজুত রয়েছে, যেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

Image

গত এক দশকে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে পাহাড়ি অঞ্চলে ঠান্ডা সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। চাষিদের আশঙ্কা, নতুন বাণিজ্য চুক্তি সেই বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এতে ফসল তোলার পর যে সম্পূর্ণ বিপণন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।

গালা আপেলে প্রথম ধাক্কার শঙ্কা
সম্প্রতি কাশ্মীরের বাগানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের গালা জাতের আপেল চাষ বাড়ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতে, শুল্ক কমলে এই জাতই সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ নিউজিল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই একই জাতের আপেল বড় পরিসরে উৎপাদিত হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। ফলে কম দামে একই ধরনের আপেল বাজারে এলে দেশীয় উৎপাদকদের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

হিমাচলের চাষিরাও শঙ্কিত
হিমাচল প্রদেশের চাষিরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, সস্তা আমদানিতে বাজার ভরে গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, বর্তমান কাঠামোতে এমন চুক্তি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে দেশীয় কৃষির জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস

শুল্ক কমলেই সংকটে পাহাড়ের আপেল, নিউজিল্যান্ডের সস্তা ফল ভাসাতে পারে দেশীয় বাজার

০৫:২১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের আপেলচাষিদের মনে নতুন করে আশঙ্কার মেঘ জমেছে। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যদি আমদানি শুল্ক কমানো হয়, তবে দেশীয় বাজার দ্রুত সস্তা বিদেশি আপেলে ভরে যেতে পারে বলে মনে করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের আপেল উৎপাদন, বিপণন এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা পাহাড়ি অর্থনীতির ওপর সরাসরি চাপ পড়বে।

Image

কাশ্মীরের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আপেল
কাশ্মীরে প্রায় পনেরো লক্ষ পরিবার কোনো না কোনোভাবে আপেল উৎপাদন ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। বছরে এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। হিমাচল প্রদেশের চিত্র প্রায় একই রকম। সেখানে আপেল উৎপাদনের বাজার মূল্য পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে এবং দেড় লক্ষের বেশি পরিবার এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই রাজ্যে আপেল শুধু কৃষিপণ্য নয়, বরং জীবিকা ও আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

Image

ঠান্ডা সংরক্ষণ ঘিরে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
চাষি ও আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় আপেল মূলত নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ঠান্ডা সংরক্ষণাগারে রেখে ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়া হয়। অফ সিজনে এই আপেল বিক্রির আয়েই বছরের বড় অংশের সংসার চলে বহু পরিবারের। কিন্তু শুল্ক কমলে নিউজিল্যান্ডের তাজা আপেল কম দামে বাজারে ঢুকে পড়বে। তখন সংরক্ষণাগারে রাখা দেশীয় আপেলের ন্যায্য দাম পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। বর্তমানে কাশ্মীর জুড়ে শত শত ঠান্ডা গুদামে বিপুল পরিমাণ আপেল মজুত রয়েছে, যেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

Image

গত এক দশকে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে পাহাড়ি অঞ্চলে ঠান্ডা সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। চাষিদের আশঙ্কা, নতুন বাণিজ্য চুক্তি সেই বিনিয়োগকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এতে ফসল তোলার পর যে সম্পূর্ণ বিপণন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা।

গালা আপেলে প্রথম ধাক্কার শঙ্কা
সম্প্রতি কাশ্মীরের বাগানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের গালা জাতের আপেল চাষ বাড়ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতে, শুল্ক কমলে এই জাতই সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ নিউজিল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই একই জাতের আপেল বড় পরিসরে উৎপাদিত হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম। ফলে কম দামে একই ধরনের আপেল বাজারে এলে দেশীয় উৎপাদকদের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

হিমাচলের চাষিরাও শঙ্কিত
হিমাচল প্রদেশের চাষিরাও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, সস্তা আমদানিতে বাজার ভরে গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, বর্তমান কাঠামোতে এমন চুক্তি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে দেশীয় কৃষির জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।