গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও অবস্থান নিয়ে ইউরোপজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা জানালেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত নেই। এই অবস্থায় ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের মিত্ররা সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপীয় উদ্বেগের পেছনের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতৃত্বকে আটক করার ঘটনা ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে নতুন করে আলোড়ন তোলে। সেই ঘটনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়েও একই ধরনের শক্ত অবস্থান নেওয়া হতে পারে কি না, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মিত্ররা। যদিও মার্কিন কূটনৈতিক মহল বলছে, তারা আলোচনাকেই অগ্রাধিকার দিতে চায়।

কূটনীতি ও শক্তির ইঙ্গিত
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের সামনে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। কূটনীতি অগ্রাধিকার পেলেও প্রয়োজনে অন্য উপায়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই মন্তব্য ইউরোপীয় নিরাপত্তা জোটে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ডেনমার্কের কাছ থেকে খনিজসমৃদ্ধ আর্কটিক দ্বীপটি দখলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ জোটের ভেতরে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে দ্বীপটির খনিজ সম্পদ ওয়াশিংটনের কৌশলগত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, বিশেষ করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে। যদিও ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান দুটি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে দ্বীপটিতে ব্যাপক সামরিক প্রবেশাধিকার ভোগ করছে।
ইউরোপ ও কানাডার অবস্থান
এই সপ্তাহে ইউরোপের বড় শক্তি ও কানাডা স্পষ্টভাবে গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সেখানকার জনগণের। ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায় থেকেও জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে।
ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া
ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড ঘিরে রাশিয়া ও চীনের সামরিক উপস্থিতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, আশপাশের জলসীমায় এমন কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তিসংগত আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ডের স্পষ্ট বার্তা
গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা আবারও জানিয়ে দিয়েছেন, দ্বীপটি কখনো বিক্রির জন্য ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতকে তারা গভীর উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















