ভারতের জ্বালানি নীতিকে দুর্বল করার অভিযোগে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের তদন্তের অংশ হিসেবে একজন আন্তর্জাতিক পরিবেশকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দেশটির পরিবেশ ও জ্বালানি নীতিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আটক ও তল্লাশির প্রেক্ষাপট
ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, পরিবেশভিত্তিক একটি সংগঠনের মাধ্যমে সন্দেহজনক বিদেশি অর্থ গ্রহণের অভিযোগে পরিবেশকর্মী হরজিৎ সিং ও তাঁর স্ত্রী জ্যোতি আওয়াস্থির বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। তাঁদের পরিচালিত সংগঠন ‘সতত সম্পদ’ ভারতের ভেতরে জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রচারে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
![]()
আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ভারতের উদ্বেগ
উক্ত উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু থেকে শুরু হওয়া এই প্রস্তাব ইতিমধ্যে একাধিক উন্নয়নশীল দেশের সমর্থন পেয়েছে। তবে ভারতীয় সংস্থার দাবি, এ ধরনের চুক্তি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে আইনি ও কূটনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জলবায়ু সম্মেলনের পর বাড়তি চাপ
ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক জলবায়ু সম্মেলনের পরই এই তদন্তের খবর সামনে আসে। সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো ও জীবাশ্ম জ্বালানি ধাপে ধাপে বন্ধের বিষয়ে শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় একাধিক দেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এর মধ্যেই ভারতের ভেতরে বিদেশি অর্থায়নে জলবায়ু আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।

সমর্থকদের বক্তব্য
জীবাশ্ম জ্বালানি নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা তজেপোরাহ বারম্যান বলেন, এই প্রস্তাব ভারতের বিরুদ্ধে নয় বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তৈরি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তরই তাঁদের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
মন্তব্যে নীরবতা
হরজিৎ সিং ও জ্যোতি আওয়াস্থি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান এবং বিদেশি অর্থের উৎস ও ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















