আটলান্টিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত দুটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর একটি রাশিয়ার পতাকা ব্যবহার করছিল। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা গেছে।
জব্দ অভিযানের পেছনের প্রেক্ষাপট
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও বিশেষ বাহিনী যৌথ অভিযানে একটি তেল ট্যাংকার আটক করে, যা আগে ভেনেজুয়েলার অবরোধ এড়িয়ে পালিয়ে গিয়ে পরে রাশিয়ার পতাকা উত্তোলন করেছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাওয়া শেষে জাহাজটি আটক করা হয়। একই দিনে ভেনেজুয়েলার তেল বহনকারী আরেকটি জাহাজও দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে আটক করা হয়।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই জাহাজগুলো ভেনেজুয়েলা ও ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি গোপন নৌবহরের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের আইন ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কোনো সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন অনুমোদন পাবে না।

রাশিয়া ও সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি
অভিযানের সময় আশপাশে রাশিয়ার নৌযান ও একটি সাবমেরিন উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মস্কো এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলার প্রধান ক্রেতা চীন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে প্রকাশ্য দাদাগিরি বলে আখ্যা দিয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, ভেনেজুয়েলার নিজস্ব তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্য দেশের জ্বালানি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

তেল বাজারে প্রভাব
এই অভিযানের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে ছাড়লে সরবরাহ বাড়বে। সেই প্রত্যাশাই দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।
ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা
যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তে ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির পথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে চীনের জন্য নির্ধারিত সরবরাহ ঘুরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে কারাকাস জানিয়েছে, উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক ও বৈধ জ্বালানি সহযোগিতায় তারা আগ্রহী।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর শক্তির জোরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নজির বিশ্ব রাজনীতিতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















