যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় তেল কার্যক্রম সম্প্রসারণের অনুমতি পেতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন। সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য শেভরনের বিদ্যমান লাইসেন্স সম্প্রসারণ, যাতে প্রতিষ্ঠানটি আবার আগের মতো বেশি পরিমাণে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারে এবং নিজস্ব শোধনাগারের পাশাপাশি অন্য ক্রেতাদের কাছেও তেল বিক্রি করতে পারে।
লাইসেন্স সম্প্রসারণের পেছনের কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ নিয়ে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল পাঠানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।

নিষেধাজ্ঞা ও শেভরনের বর্তমান অবস্থান
ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে একমাত্র সক্রিয় মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ অনুমতির আওতায় তারা সেখানে কাজ করছে, যা দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে গত জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে শেভরনের লাইসেন্সে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করে। এর ফলে শেভরনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ ওই রপ্তানি থেকে কোনো আয় পায়নি।
নতুন ব্যবস্থায় কী বদলাতে পারে
লাইসেন্স সম্প্রসারণ হলে শেভরন আবার আগের রপ্তানি মাত্রায় ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য গন্তব্যে তেল পাঠানোর সুযোগও মিলতে পারে। অতীতে শেভরনের যেসব বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল, তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে কারাকাসে তেল উত্তোলন পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি আগ্রহ ও উত্তেজনা
ওয়াশিংটন শুধু শেভরনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল রপ্তানিতে আরও কিছু মার্কিন কোম্পানিকে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো, যাদের ভেনেজুয়েলায় একসময় ব্যবসা ছিল বা যাদের সম্পদ আগের সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। তবে এসব কোম্পানির সম্ভাব্য অংশগ্রহণ কারাকাস ও ওয়াশিংটনের আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তেলের আয় ও নজরদারি
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই অর্থ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন পণ্য সরবরাহে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পিডিভিএসএ বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও স্বচ্ছ শর্তে তেল রপ্তানি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে এবং বাজারদরে তেল বিক্রির প্রত্যাশা করছে।

নিষেধাজ্ঞা বহালই থাকছে
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। সম্প্রতি আটলান্টিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত দুটি ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনাও সেই কঠোর অবস্থানেরই অংশ। ফলে শেভরনের লাইসেন্স সম্প্রসারণ হলেও পুরো প্রক্রিয়া থাকবে কঠোর নজরদারির মধ্যে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















