ভোররাতে আকস্মিক সামরিক অভিযানে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজধানী কারাকাসে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, প্রাণহানি আর আতঙ্কের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এই অভিযানের কেন্দ্রে রয়েছে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ। তাঁর ভাষায়, মাটির নিচে থাকা বিপুল সম্পদ তোলা হবে এবং সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন কোম্পানির স্বার্থে ব্যবহৃত হবে
ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পরপরই ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, প্রতিরোধ দেখা দিলে দ্বিতীয় দফার সামরিক পদক্ষেপও আসতে পারে। সরকারি ব্যাখ্যায় মাদক পাচার ও অভিবাসন সংকটের কথা বলা হলেও বাস্তবে তেলের প্রতি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহই যে এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে, তা তাঁর বক্তব্যেই পরিষ্কার।
তেলের লোভে শক্তি প্রয়োগ
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় এক ষষ্ঠাংশ রয়েছে। অথচ উৎপাদন খুবই কম। ট্রাম্পের দাবি, এই বিপুল সম্পদ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার খরচ পুষিয়ে নেবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলো নতুন করে লাভবান হবে। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, মাটি থেকে যে অর্থ উঠবে, তাতেই সব ব্যয় মেটানো যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এই উৎপাদন বাড়াতে বহু বছর ও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবু হোয়াইট হাউসের বার্তায় স্পষ্ট, ভবিষ্যতের ভেনিজুয়েলা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে চলবে।
পুরনো ইতিহাস, নতুন দাবি
উনিশশো ছিয়াত্তরে ভেনেজুয়েলা তেল শিল্প জাতীয়করণ করার আগে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে বড় ভূমিকা রাখত। পরে আবার বিদেশি বিনিয়োগ এলেও হুগো চাভেজের সময় নতুন করে জাতীয়করণ শুরু হয়। সেই সময় ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই ইতিহাস টেনে এনে দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প বহু বছর ধরেই অন্য দেশের তেল দখলের কথা বলে আসছেন। এবার ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে তিনি সেই কথাকেই বাস্তবে রূপ দিতে এগোলেন।
কর্পোরেট অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় সীমিত আকারে কাজ করা একমাত্র মার্কিন তেল প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও আইনি বিধি মেনেই কাজ চালানোই তাদের অগ্রাধিকার। ট্রাম্পের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণার পরও কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ভেনেজুয়েলায় এই অভিযান শুধু একটি দেশের সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়। এটি তেল, শক্তি রাজনীতি আর সামরিক ক্ষমতার নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। লাতিন আমেরিকা থেকে বিশ্ব রাজনীতি—সবখানেই এর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















