ইন্টারনেটে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই এখন ভয়ংকর বিভ্রান্তির মুখে পড়ছেন। অনুসন্ধান ফলাফলের শুরুতেই ভেসে ওঠা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সারাংশে ভুল ও অসম্পূর্ণ চিকিৎসা তথ্য থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এসব তথ্য অন্ধভাবে অনুসরণ করলে রোগীর জীবন পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ভুল পরামর্শে বাড়ছে চিকিৎসা ঝুঁকি
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, এই পরামর্শ বাস্তবে ক্ষতিকর। এতে রোগীরা প্রয়োজনীয় ক্যালরি না পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

যকৃত পরীক্ষায় সংখ্যার ধোঁয়াশা
যকৃতের রক্ত পরীক্ষার স্বাভাবিক মাত্রা জানতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সারাংশে এমন সব সংখ্যা দেখানো হচ্ছে, যেখানে বয়স, লিঙ্গ বা অন্যান্য পার্থক্যের কোনো ব্যাখ্যা নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে গুরুতর যকৃত রোগে আক্রান্ত অনেকেই নিজেদের সুস্থ ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করতে পারেন।
নারী ক্যানসার ও মানসিক স্বাস্থ্যে ভুল দিকনির্দেশ
নারীদের ক্যানসার শনাক্তে কোন পরীক্ষা কার্যকর, সেই তথ্যেও বিভ্রান্তি ধরা পড়েছে। এমন কিছু পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, যেগুলো বাস্তবে নির্ভরযোগ্য নয়। একইভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ও খাওয়াদাওয়া সংক্রান্ত সমস্যায় এমন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা চিকিৎসা নেওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে এবং ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের মতে, মানুষ সংকটের মুহূর্তে দ্রুত উত্তর পেতে ইন্টারনেটের ওপর ভরসা করে। সেই সময় যদি তথ্য ভুল বা প্রসঙ্গহীন হয়, তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। একই প্রশ্নে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন উত্তর আসাও বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গুগলের বক্তব্য
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সারাংশ সাধারণত নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং ব্যবহারকারীদের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা হয়। কোথাও তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা হলে নীতিমালা অনুযায়ী সংশোধনের আশ্বাসও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বাস্থ্যসহ সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্যের মান নিশ্চিত করতে তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















