২০২৫ সাল শেষ হয়ে নতুন বছরের ব্যস্ততা যখন ধীরে ধীরে থিতু হচ্ছে, তখন একটু থেমে নিজের মনের দিকে তাকানো জরুরি হয়ে ওঠে। কাজের চাপ, উৎসবের ক্লান্তি আর প্রতিদিনের স্ক্রিননির্ভর জীবনের ভিড়ে আমাদের মস্তিষ্কও বিশ্রাম চায়। বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা আর সাম্প্রতিক গবেষণার আলোকে জানা যাচ্ছে, কিছু সহজ অভ্যাসই ২০২৬ জুড়ে মানসিক স্বচ্ছতা, মনোযোগ আর স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
হাঁটার অভ্যাসে মন ভালো থাকে
যেকোনো বয়সে শরীরচর্চা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিয়মিত হাঁটা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পা হাঁটা মানুষদের মানসিক অবক্ষয় ধীরগতিতে হয়। খুব বেশি নয়, নিয়মিত মাঝারি হাঁটাও মস্তিষ্কের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অগোছালো দূর হলে হালকা হয় মন
ঘরের কোনো একটি ছোট জায়গা গুছিয়ে নেওয়াই হতে পারে মানসিক ভার লাঘবের সহজ উপায়। পুরো ঘর একসঙ্গে পরিষ্কার করার চাপ না নিয়ে শুধু একটি ড্রয়ার বা তাক বেছে নিলেই যথেষ্ট। এই ছোট নিয়ন্ত্রণবোধ অনেক সময় অস্থিরতার ভেতর প্রশান্তি এনে দেয় এবং মনের ওপর জমে থাকা চাপ হালকা করে।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি
অন্যের কষ্টে আমরা সহজেই সহানুভূতিশীল হই, কিন্তু নিজের বেলায় কঠোর হয়ে উঠি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মসমালোচনার মুহূর্তে নিজেকে একটু সময় দেওয়া দরকার। অনুভূতিগুলো স্বীকার করে নিয়ে নিজের সঙ্গে নরম ভাষায় কথা বললে মানসিক চাপ কমে এবং আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে ফিরে আসে।
![]()
বন্ধুর সঙ্গে কথা বললে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে
দীর্ঘদিন সুস্থ স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা মানুষদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া। নিয়মিত বন্ধু বা কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা মানসিক শক্তি বাড়ায়। আলাপচারিতা শুধু মন ভালো করে না, বরং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে মনোযোগ ফেরে
গাছপালা, জলাশয় আর খোলা জায়গার মধ্যে সময় কাটালে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই বিশ্রাম পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁটার পর মানুষের মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বাড়ে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কিছু সময় কাটালে মস্তিষ্ক যেন নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে।

ফোন থেকে দূরে থাকার সময় দরকার
প্রতিদিনের অতিরিক্ত স্ক্রিনব্যবহার মনোযোগে ভাঙন ধরায়। সপ্তাহে অন্তত একদিন ফোন চোখের আড়ালে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে যোগাযোগ রাখা গেলেও অকারণ স্ক্রলিং বন্ধ করলে মনের ভেতরে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যেখানে নতুন চিন্তা ও সৃজনশীলতা জন্ম নেয়।
শ্রবণশক্তি রক্ষায় সতর্কতা
উচ্চ শব্দের পরিবেশে দীর্ঘদিন থাকলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই উচ্চ শব্দে কানে সুরক্ষা ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর শ্রবণ পরীক্ষা করানো মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো ঘুম মানেই সুস্থ মস্তিষ্ক
ঘুম শুধু বিশ্রাম নয়, এটি মস্তিষ্কের পরিচর্যার সময়। গভীর ঘুমে মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পরিষ্কার করে এবং অন্য ধাপে নতুন তথ্য ও অনুভূতি স্থায়ী স্মৃতিতে রূপ নেয়। নিয়মিত সময় ধরে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঘুম না এলে চিন্তা বদলের কৌশল
ঘুমোতে যাওয়ার পর চিন্তার ভিড় হলে সহজ একটি মানসিক খেলা কাজে আসতে পারে। একটি শব্দ বেছে নিয়ে তার অক্ষর ধরে নতুন নতুন শব্দ কল্পনা করলে মন ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং ঘুম সহজে আসে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















