ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী আন্দোলন দেশটির শাসকদের সামনে এক গভীর বৈধতার সংকট তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক হতাশা ও সামাজিক ক্ষোভ মিলিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে এই অস্থিরতা। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ এখন দেশের একত্রিশটি প্রদেশে বিস্তৃত, যা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে রাজপথে
গত মাসে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী বাজার এলাকায় মুদ্রার অবমূল্যায়ন নিয়ে ক্ষুব্ধ দোকানিদের প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। দ্রুতই তাতে যুক্ত হন নানা শ্রেণির মানুষ, বিশেষ করে তরুণ পুরুষরা। আগের আন্দোলনের মতো এবার নারীরা সামনে না থাকলেও বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা তরুণদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।

আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোরতা
মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্যে জানা যাচ্ছে, বিক্ষোভ চলাকালে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজারের বেশি। একই সময়ে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়। বিদেশে থাকা বিরোধী নেতাদের আহ্বানেও নতুন করে প্রতিবাদের গতি বাড়ে।
তরুণ প্রজন্ম ও শাসকদের দূরত্ব
ইসলামি বিপ্লবের প্রায় পাঁচ দশক পর ইরানের সমাজ বদলে গেছে। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ ত্রিশ বছরের নিচে। এই প্রজন্ম ধর্মীয় বিধিনিষেধ, পোশাকসংক্রান্ত কড়াকড়ি ও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে নিজেদের জীবনযাত্রার মিল খুঁজে পাচ্ছে না। অনেক তরুণের ভাষায়, তারা শুধু শান্ত ও স্বাভাবিক জীবন চায়, কিন্তু রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার সেখানে নেই।

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ক্ষোভ
চলমান বিক্ষোভে ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। প্রতিবাদীদের স্লোগানে স্পষ্ট, বিদেশের সংঘাতে অর্থ ও শক্তি ব্যয় না করে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দাবি উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে ইরানের প্রভাব কমে আসায় শাসকগোষ্ঠীর কৌশল নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে।
শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, দমন ও সাময়িক ছাড় দিয়ে এতদিন যে কৌশলে টিকে ছিল শাসনব্যবস্থা, তা এখন সীমায় পৌঁছেছে। পরিবর্তন অনিবার্য মনে হলেও তার রূপ কী হবে, তা অনিশ্চিত। বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও দেশের ভেতরে অনেকেই নতুন সংঘাত চান না। তারা শান্তি, স্বাভাবিকতা ও বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্বপ্ন দেখছেন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















