বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। এর মধ্যে অস্থি বা হাড়সংক্রান্ত সমস্যাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, বয়সজনিত হাড়ের রোগগুলোর মধ্যে বাতব্যথার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং এই সমস্যায় পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি ভোগেন। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যেই নারীদের অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়তে শুরু করে।
হাড় দুর্বল হওয়ার পেছনে কী কাজ করে
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড়ের শক্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বোন মিনারেল ডেনসিটি। এই ঘনত্ব ঠিক থাকলেই হাড় মজবুত থাকে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসও হাড় গঠনের জন্য অত্যন্ত জরুরি উপাদান। যখন বোন মিনারেল ডেনসিটি কমে যায় বা শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন ধীরে ধীরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে এবং হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।

নারী ও পুরুষের ঝুঁকির পার্থক্য
পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সে এ ধরনের সমস্যা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক আগেই শুরু হয়। ত্রিশের পর শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে বাতব্যথা ও হাড়ের সমস্যার আশঙ্কা বাড়ে। আবার রজোনিবৃত্তির পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়, যা হাড় দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ। পুরোপুরি এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব না হলেও ছোট বয়স থেকেই জীবনযাত্রায় সচেতন হলে ভবিষ্যতে এর তীব্রতা অনেকটাই কমানো যায়।
বাতব্যথার লক্ষণ
বাতব্যথা সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় শুরু হয় এবং সামান্য চাপ পড়লেই ব্যথা বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা হয় কোমর ও হাঁটুতে। অনেক ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে বেঁকে যেতে পারে, পা বেঁকে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে অনেককে কুঁজো হয়ে হাঁটতে দেখা যায়।
নারীদের বাতব্যথার পেছনের প্রধান কারণগুলো

হরমোনজনিত পরিবর্তন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে থাকে। মেনোপজের পর এই হরমোন হঠাৎ অনেকটা কমে যায়। চিকিৎসকদের মতে, হাড় ক্ষয়ের অন্যতম বড় কারণ হলো এই হরমোনের ঘাটতি।
অটোইমিউন প্রবণতা
নারীদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক হলেও একই সঙ্গে অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এমনই একটি অটোইমিউন রোগ, যা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

জন্মগত অস্থিসন্ধির গঠন
নারীদের হাড়ের গঠন সাধারণত একটু চওড়া এবং অস্থিসন্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি নমনীয় হয়ে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে মেদের পরিমাণও বাড়ে। এর ফলে কোমর ও হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত বাতব্যথায় রূপ নিতে পারে।
সন্তানধারণের প্রভাব
সন্তানধারণ ও প্রসবের সময় নারীদের শরীরে হরমোনের বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকেই এর প্রভাব পড়ে। গর্ভাবস্থায় কোমর ও পায়ের হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

ওজন বৃদ্ধি
অতিরিক্ত ওজন আর্থ্রাইটিসের একটি বড় কারণ। একটি বয়সের পর অনেক নারীর শরীরের নিচের অংশ ভারী হয়ে ওঠে। তখন শরীরের বেশির ভাগ চাপ পড়ে হাঁটু ও কোমরের অস্থিসন্ধির ওপর, যা ব্যথা ও যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















