জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করার নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার প্রতিবাদে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতেই এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে সব সংগঠন ও সমিতির নির্বাচন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এতে পেশাজীবী সংগঠনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত হয়। এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই রাত প্রায় ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইআইসিটি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে নামেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভে পুরো ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি হয়।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন নানা অজুহাতে স্থগিত রয়েছে। কখনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কখনো জাতীয় নির্বাচনের কারণ দেখিয়ে এই নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই ঘোষণায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বলে তারা মনে করছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার শামিল।

প্রার্থীর বক্তব্যে অসন্তোষের প্রতিফলন
শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের নাম করে আবারও শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার বন্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব পাওয়া মৌলিক অধিকার এবং এই অধিকার হরণ করার যেকোনো চেষ্টা তারা মেনে নেবেন না।
দাবি ও হুঁশিয়ারি
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলো আলাদা গুরুত্ব দিয়ে চালু রাখা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















