টোকিওর কোলাহলমুখর শহরে দিনের আলো ফুটলেই কফির সুবাসে ভরে ওঠে কিছু ঠিকানা, আর রাত নামলেই সেই জায়গাই বদলে যায় ভিন্ন রূপে। এমনই এক সময়ে হারিয়ে যেতে বসা কিস্সাতেন সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে তরুণদের হাতে। আশির দশকে যে ঐতিহ্যবাহী কফিশপ সংস্কৃতি জনপ্রিয়তার শিখরে ছিল, বহুজাতিক চেইন আর বিশেষায়িত কফির ভিড়ে একসময় তা ম্লান হয়ে যায়। বয়সী মালিকদের সঙ্গে সঙ্গে নিভে যাচ্ছিল কিস্সাতেনের আলো। এখন দৃশ্যপট বদলাচ্ছে।
স্মৃতির টানে নতুন আগমন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ উদ্যোক্তারা কিস্সাতেনকে দেখছেন শুধু কফি খাওয়ার জায়গা হিসেবে নয়, বরং শোয়া যুগের নস্টালজিয়ায় মোড়া এক জীবন্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে। রঙিন পারফে, মেলন ক্রিম সোডা আর ভিন্নধর্মী অন্দরসজ্জার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ছে আগ্রহ। ধীরগতির শহুরে সময় উপভোগ করতে দেশি বিদেশি দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন এসব ক্যাফেতে।

পরীক্ষা নিরীক্ষার সাহস
টোকিওতেই অস্থায়ী কফিশপ চালু করে আলোচনায় আসা এক তরুণ উদ্যোক্তার বিশ্বাস, এই টান কেবল ফ্যাশনের নয়। শোয়া ও হেইসেই যুগের নকশা আর স্থাপত্যে এমন এক আকর্ষণ আছে, যা পুরোনো হয়েও নতুন মনে হয়। অস্থায়ী দোকানের ধারণা তাঁকে নিরীক্ষার সুযোগ দিয়েছে, পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতেও সহায়তা করেছে।
দিন আর রাতের দ্বৈত রূপ
কাবুকিচো এলাকার এক কিস্সাতেনে দিনের আলোয় কফিশপ, রাতে বার—এই দুই রূপের সহাবস্থান এখন শহুরে জীবনের সঙ্গে মানানসই। মালিক নিজেকে কেবল ক্যাফে চালক নয়, বরং এক ধরনের নির্মাতা হিসেবে দেখেন। জাপানি আবহের সঙ্গে সামান্য ভিনদেশি ছোঁয়ার মিশেলে তৈরি এই জায়গা এখন আলোকচিত্র আর শুটিংয়েরও প্রিয় ঠিকানা।

পাড়ার মানুষের আশ্রয়
শহরের আরেক প্রান্তে পাড়াভিত্তিক এক কিস্সাতেনে লক্ষ্য আরও সহজ। মালিক চান, আশপাশের মানুষ যেন এসে এটিকে নিজেদের জায়গা মনে করেন। শোয়া যুগের ক্যাফে আর পুরোনো জাপানি বারের ছোঁয়ায় সাজানো অন্দরসজ্জা, মখমলের দেয়াল আর রঙিন অলংকরণ তাঁর ব্যক্তিগত রুচির প্রতিফলন। মেনুতেও আছে সেই ঘরোয়া স্বাদ, যা অতিথিকে বারবার টেনে আনে।

সামনে পথ চলার চ্যালেঞ্জ
তরুণদের আগ্রহ বাড়লেও দুশ্চিন্তা একেবারে কাটেনি। আশির দশকের পর থেকে জাপানজুড়ে কিস্সাতেনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। পুরোনো দোকান নতুন হাতে তুলে দেওয়া গেলেও তার আত্মা ধরে রাখা কঠিন। তবু নতুন প্রজন্মের এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে, কিস্সাতেন শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বর্তমান আর ভবিষ্যতেরও অংশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















