রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে রেখে এক জামায়াত নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা বাসায় লুটপাট চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। নিহতের নাম আনোয়ারুল্লাহ। তিনি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহ-সভাপতি ছিলেন।
ঘটনার পটভূমি
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, চুরির উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। হত্যাকাণ্ডের ধরন এবং লুটের পরিমাণ নিয়ে তদন্ত চলছে।

পুলিশের বক্তব্য
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দোতলা একটি বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে নিহতের স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং পরে আনোয়ারুল্লাহকে হত্যা করে। এরপর বাসা থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মামলা হয়নি। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুইজন ব্যক্তি প্রথমে বারান্দার গ্রিল এবং পরে একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় বাসার ভেতরে অবস্থান করে। একই পথ ব্যবহার করে তারা বের হয়ে যায়, যা তাদের প্রধান প্রবেশপথ ছিল।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর দুর্বৃত্তরা আনোয়ারুল্লাহর বাসা থেকে আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ নিয়ে গেছে। তাদের মতে, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে।
ডিবির অবস্থান
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালেবুর রহমান জানান, এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, তবে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















