ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে চলমান দমন-পীড়নে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদেশে থাকা স্বজনেরা দেশের ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ভয়ংকর পরিস্থিতির বিবরণ পাচ্ছেন।
প্রথমবার কয়েক দিনের নীরবতা ভেঙে ফোনে কথা বলতে পেরে ইরানের নাগরিকরা ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
একজন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হতে পারে। এই সংখ্যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এক বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ঘটনায়। জানা গেছে, তাঁকে আগামীকালই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। দ্রুত বিচার ও শাস্তির এই প্রক্রিয়াকে অনেকেই নজিরবিহীন বলে অভিহিত করছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ চললেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, গত রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে নাগরিকদের পাঠানো ভিডিও ও তথ্যের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
এই দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ও গোপন বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দল শিগগিরই বৈঠকে বসতে পারে।
এদিকে, ইরানের ভেতরে চলমান ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও কিছু মানুষ কোনোভাবে বিদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া এখনো দুষ্কর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















