১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

নেপালে অস্থিরতার নেপথ্যে বিদেশি গভীর শক্তি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি

নেপালের সাম্প্রতিক সহিংস রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে বিদেশ থেকে পরিচালিত গভীর শক্তির সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গ্যাওয়ালি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে তরুণদের আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলেই সরকার পতনের পথ তৈরি হয়।

সহিংস আন্দোলন ও সরকারের পতন

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে যে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তা এক পর্যায়ে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। সেই সংঘর্ষে সাতাত্তর জন নিহত হন এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাওয়ালি এখন ওলির সেই অভিযোগকেই জোরালোভাবে সমর্থন করছেন যে এই আন্দোলনের পেছনে ছিল বাইরের শক্তির প্রত্যক্ষ মদদ।

New vistas of cooperation will open: Gyawali - The Himalayan Times -  Nepal's No.1 English Daily Newspaper | Nepal News, Latest Politics,  Business, World, Sports, Entertainment, Travel, Life Style News

ভুল তথ্য ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ

একান্ত সাক্ষাৎকারে গ্যাওয়ালি বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যেসব গোষ্ঠী বিদেশি গভীর শক্তির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল, তারাই পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলে। তরুণদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।

ভারত ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তি

গ্যাওয়ালির মতে, নেপালের কূটনৈতিক অবস্থান বদলানোই কিছু বড় শক্তিকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। ভারত ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা কাঠমান্ডু প্রকাশ করছিল, তা সবার পছন্দ হয়নি। নেপালের ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থান নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাওয়া শক্তিগুলো এই নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

Nepal's parliament set on fire after PM resigns over anti-corruption  protests - BBC News

তরুণ আন্দোলনে বিদেশি অর্থের অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেপালের তরুণদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল তরুণ সমাজকে সংগঠিত করে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করা। অভিযোগ রয়েছে, এই তৎপরতা ভারত ও চীনের প্রভাব কমানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ ছিল।

গভীর শক্তির ভূমিকায় নতুন বিতর্ক

এই সব অভিযোগ সামনে আসার পর নেপালের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ আন্দোলনে বিদেশি হস্তক্ষেপ কতটা গভীর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুধু ঘরোয়া রাজনীতির ফল নয়, বরং আন্তর্জাতিক শক্তির জটিল হিসাবনিকাশের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নেপালে অস্থিরতার নেপথ্যে বিদেশি গভীর শক্তি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি

০১:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নেপালের সাম্প্রতিক সহিংস রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে বিদেশ থেকে পরিচালিত গভীর শক্তির সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গ্যাওয়ালি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে তরুণদের আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলেই সরকার পতনের পথ তৈরি হয়।

সহিংস আন্দোলন ও সরকারের পতন

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে যে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, তা এক পর্যায়ে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। সেই সংঘর্ষে সাতাত্তর জন নিহত হন এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাওয়ালি এখন ওলির সেই অভিযোগকেই জোরালোভাবে সমর্থন করছেন যে এই আন্দোলনের পেছনে ছিল বাইরের শক্তির প্রত্যক্ষ মদদ।

New vistas of cooperation will open: Gyawali - The Himalayan Times -  Nepal's No.1 English Daily Newspaper | Nepal News, Latest Politics,  Business, World, Sports, Entertainment, Travel, Life Style News

ভুল তথ্য ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ

একান্ত সাক্ষাৎকারে গ্যাওয়ালি বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যেসব গোষ্ঠী বিদেশি গভীর শক্তির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল, তারাই পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলে। তরুণদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।

ভারত ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় অস্বস্তি

গ্যাওয়ালির মতে, নেপালের কূটনৈতিক অবস্থান বদলানোই কিছু বড় শক্তিকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। ভারত ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা কাঠমান্ডু প্রকাশ করছিল, তা সবার পছন্দ হয়নি। নেপালের ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থান নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাওয়া শক্তিগুলো এই নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

Nepal's parliament set on fire after PM resigns over anti-corruption  protests - BBC News

তরুণ আন্দোলনে বিদেশি অর্থের অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেপালের তরুণদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল তরুণ সমাজকে সংগঠিত করে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করা। অভিযোগ রয়েছে, এই তৎপরতা ভারত ও চীনের প্রভাব কমানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ ছিল।

গভীর শক্তির ভূমিকায় নতুন বিতর্ক

এই সব অভিযোগ সামনে আসার পর নেপালের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ আন্দোলনে বিদেশি হস্তক্ষেপ কতটা গভীর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুধু ঘরোয়া রাজনীতির ফল নয়, বরং আন্তর্জাতিক শক্তির জটিল হিসাবনিকাশের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।