২০২৫ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ব্যাংকটি ওই বছরে ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা, শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খেলাপি ঋণ কমে আসাই এই বড় সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
পরিচালন মুনাফায় বড় লাফ
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ২ হাজার ৩২২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের বছর যেখানে মুনাফা ছিল ৫ হাজার ৬৯৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ব্যাংকের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।

নিট মুনাফা ও মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা
প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণের পর সোনালী ব্যাংকের নিট মুনাফা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বহু বছর পর ব্যাংকটি মূলধন ঘাটতির চাপ থেকে মুক্ত হয়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধনের হার বা সিআরএআর ১০ শতাংশের নিয়ন্ত্রক সীমা অতিক্রম করেছে, যা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে বড় সাফল্য বলে উল্লেখ করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
খেলাপি ঋণ কমানোর অগ্রগতি
খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণেও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০২৬ সালে এই হার ১১ থেকে ১২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এক অঙ্কের ঘরে নিয়ে আসা। ইতিমধ্যে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পে পাওনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
উন্নতির মধ্যেও ব্যাংকটির সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সরকারি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বড় অঙ্কের পাওনা এখনো আদায় বাকি। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে এলসি কমিশন বাবদ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ কেন্দ্রীভবনের ঝুঁকি কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোট ঋণের ৩৭ শতাংশ মাত্র পাঁচটি শাখায় কেন্দ্রীভূত থাকায় বড় ঋণগুলো অন্যান্য শাখায় পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে।

শাসনব্যবস্থা ও জনআস্থা
ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কঠোর ঋণ যাচাই ও শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের অনিয়ম এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা অতীতের হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকিয়েছে। আমানতের ধারাবাহিক প্রবাহ ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থারই প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন।
আগামী দিনের লক্ষ্য
সোনালী ব্যাংক শিগগিরই ২০২৬ সালের নতুন ব্যবসায়িক লক্ষ্য ঘোষণা করবে। আয় আরও বাড়ানো এবং অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















