টঙ্গীর গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেডের দুটি কারখানায় হঠাৎ করে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণ
শিল্প এলাকার মা টাওয়ার ও আলম টাওয়ারে অবস্থিত দুটি কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে এই অসুস্থতার ঘটনা ঘটে। কাজের মধ্যেই হঠাৎ শ্রমিকরা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা তাদের কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
বেশির ভাগ অসুস্থ শ্রমিককে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যরা আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাহিদ সুলতানা জানান, অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কজনিত সমস্যা, বমি ও শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা গেছে। তবে বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিকই ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

মজুরি বকেয়া ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, নভেম্বর মাসের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা সোমবার ও মঙ্গলবার কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করেছিলেন। ওই সময়েও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। বুধবার পুনরায় কাজ শুরু করার পরই হঠাৎ করে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারখানা বন্ধ ও তদন্ত
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের অসুস্থতার সঠিক কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে শিল্প এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















