শূন্যে নামানো পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে এসব ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিলেন, তা সরকার খতিয়ে দেখছে এবং সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
যে পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্যে নামানো হয়েছে
ড. সালেহউদ্দিন জানান, প্রথম সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার সম্প্রতি শূন্যে নামানো হয়েছে। এসব ব্যাংকের নিরীক্ষকরা এখন তদন্তের আওতায় থাকবেন।

শেয়ার কেনার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারহোল্ডাররা কোন পরিস্থিতিতে ও কী প্রেক্ষাপটে এসব ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিলেন, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। সেই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ জটিল বিষয়
সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ড. সালেহউদ্দিন স্বীকার করেন, বিষয়টি সহজ নয়। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো একীভূত করার আগে সরকার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছিল। তবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যাংক গঠনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ওই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্যে নামানো হয়েছে।
তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। শুধু দাবি করলেই তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এসব সিদ্ধান্ত খুব সহজে নেওয়ার মতো নয়।

আমানতকারীদের সুরক্ষাই সরকারের অগ্রাধিকার
অর্থ উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, যাদের ব্যাংকে আমানত রয়েছে, তারা সবাই তাদের টাকা পুরোপুরি ফেরত পাবেন।
তিনি আরও বলেন, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। শেয়ারহোল্ডাররা স্বেচ্ছায় ব্যাংকে বিনিয়োগ করেন এবং মালিকানার উদ্দেশ্যে ঝুঁকি জেনেই শেয়ার কেনেন। বাজারঝুঁকি সম্পর্কে তাদের ধারণা থাকার কথা।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন নিয়েও তদন্ত
সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন, অনেক শেয়ারহোল্ডার দাবি করছেন যে তারা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দেখে শেয়ার কিনেছিলেন, যেখানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের সময়ে লাভ দেখানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ঠিক এই কারণেই বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কেনা হয়েছে, সেটি যাচাই করে কী করা যায়, তা নির্ধারণ করা হবে।
নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
৫ আগস্টের আগের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন দেওয়া নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেন, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই মুহূর্তে সব কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যাংক খাতে বড় পুনর্গঠন
সরকার সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। দুর্বল কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, যাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, সুশাসন জোরদার করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















