নিউ ইয়র্কের বাজারে উদ্বেগের ছায়ায় তেলের দাম আবারও চড়েছে। ইরানের তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। এর ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উঠে গেছে গত সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
ইরানকে ঘিরে উদ্বেগ
সোমবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রতি ব্যারেল বেড়ে দাঁড়ায় তেষট্টি ডলার সাতাশি সেন্টে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম উঠে যায় ঊনষাট ডলার পঞ্চাশ সেন্টে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় দেশটির তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এমন আশঙ্কা মূলত দামের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কাজ করছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপোড়েন
ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রাণঘাতী দমন অভিযান নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছেন। তিনি ইরানের বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সমুদ্রে আটকে থাকা তেল
তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব বলছে, ইরানের বিপুল পরিমাণ তেল এখনো সমুদ্রে আটকে আছে, যা প্রায় পঞ্চাশ দিনের উৎপাদনের সমান। চীন নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের তুলনায় কম তেল কিনছে, ফলে তেহরান সরবরাহ নিরাপদ রাখতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সম্ভাব্য সরবরাহ
তবে বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণহীন নয়। ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটি আবার তেল রপ্তানি শুরু করতে পারে, এমন প্রত্যাশা দামের বৃদ্ধি কিছুটা ঠেকিয়ে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কারাকাস থেকে প্রায় পাঁচ কোটি ব্যারেল নিষেধাজ্ঞাধীন তেল হস্তান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তেল কোম্পানিগুলো নিরাপদে এই তেল পরিবহনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাশিয়া ও আজারবাইজানের প্রভাব
এদিকে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলার ঝুঁকি এবং মস্কোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজান জানিয়েছে, গত বছরে তাদের তেল রপ্তানি কমেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















