উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্য যোগাযোগের জটিল সমস্যার মানবিক সমাধান খুঁজছে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি দ্রুত বর্ধনশীল নতুন উদ্যোগ। স্বাস্থ্যখাতে সংযোগ ও সহমর্মিতার ঘাটতি দূর করতে কাজ করছে হেলথেরা, আর তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তকে সহজ ও অর্থবহ করতে নতুন পথ দেখাচ্ছে পিক্সোনাল। উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা পরিবেশে এই দুই প্রতিষ্ঠানের পথচলা নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য সেবায় মানুষের ভাষা ফেরানোর চেষ্টা
হেলথেরার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নাদের নাসারের বিশ্বাস, স্বাস্থ্যসেবা কেবল প্রযুক্তিনির্ভর হলেই যথেষ্ট নয়, সেটিকে মানুষের অনুভূতির কাছাকাছি আনতে হবে। প্রকৌশল ও ডিজিটাল রূপান্তরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, অনেক শিল্পে প্রযুক্তি বিপ্লব আনলেও স্বাস্থ্যসেবা রয়ে গেছে দূরত্বপূর্ণ। পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন, সমস্যার মূল প্রযুক্তির অভাব নয়, বরং মানুষের সঙ্গে সংযোগের সংকট।
এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় হেলথেরা। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে কল্পনা করছে সংযুক্ত, সহমর্মী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এক পরিবেশ হিসেবে। ভাষা বদলের মাধ্যমে তারা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে চেয়েছে। চিকিৎসককে কেবল সেবাদাতা নয়, নিরাময়ের সহযাত্রী হিসেবে দেখা, হাসপাতালকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে ভাবা এবং সম্পর্ককে বৃত্তে রূপ দেওয়ার ধারণা থেকেই তাদের যাত্রা।

বুদ্ধিমান কিন্তু অদৃশ্য প্রযুক্তির শক্তি
হেলথেরার কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইঞ্জিন, যা ব্যবহারকারীর কথা শোনে, শেখে এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেয়। এই প্রযুক্তি নীরবে কাজ করে, যাতে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা হয় স্বাভাবিক ও ব্যক্তিগত। গোপনীয়তা ও আস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সেবাদাতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে টেকসই সংযোগ গড়ে তুলছে।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত হওয়া। ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্বীকৃতি তাদের এই অভিযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তথ্যকে গল্পে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ
অন্যদিকে পিক্সোনালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সাইদের যাত্রা শুরু হয় নকশা ও প্রকৌশলের সংমিশ্রণে। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি লক্ষ্য করেন, বিপুল তথ্যভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষ এখনো স্থিরচিত্র ও উপস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, এটি প্রযুক্তির নয়, যোগাযোগের সমস্যা।
তথ্যবিজ্ঞান নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনার পর তিনি গড়ে তোলেন পিক্সোনাল। তাদের তৈরি ব্যবস্থা তথ্যকে একত্রিত করে জীবন্ত বর্ণনায় রূপ দেয়, যাতে প্রশ্ন থেকে সিদ্ধান্তের দূরত্ব কমে আসে। এটি কোনো প্রচলিত তথ্যচিত্র বা বিশ্লেষণী সফটওয়্যার নয়, বরং প্রেক্ষাপট, গল্প ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এক নতুন অভিজ্ঞতা।
মানুষকে কেন্দ্র করে নকশা ও সিদ্ধান্ত
পিক্সোনালের মূল শক্তি তাদের নকশা দর্শন। এখানে প্রযুক্তির আগে মানুষকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকৌশলী নয়, বরং নীতিনির্ধারক, বিশ্লেষক ও দলগতভাবে কাজ করা মানুষের কথা ভেবেই প্রতিটি বৈশিষ্ট্য তৈরি। এই মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই বাজারে তাদের আলাদা করেছে।
সরকারি সহযোগিতা ও আস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এগিয়েছে। আন্তর্জাতিক নকশা পুরস্কারসহ একাধিক স্বীকৃতি তাদের পথচলাকে আরও দৃঢ় করেছে। এখন বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা নতুন পর্যায়ে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অঞ্চলের উদ্যোক্তা পরিবেশের বদলে যাওয়া চিত্র
হেলথেরা ও পিক্সোনালের গল্প প্রমাণ করে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা পরিবেশ দ্রুত পরিণত হচ্ছে। এখানে প্রযুক্তি কেবল দক্ষতার জন্য নয়, মানুষের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















