ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আইন প্রণেতা বলেছেন সরকারের তথ্যমতে দেশব্যাপী বন্দি মুক্তির উদ্যোগে চারশো’রও বেশি মানুষ কারা থেকে মুক্ত হয়েছে, তবে স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সংখ্যাকে অনেক কম বলেছে। সরকার এমন সময় এই মুক্তির ঘোষণা দেয় যখন রাজনৈতিক নেতা ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ এই দাবির পেছনে জোরদার চাপ সৃষ্টি করছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
মুক্তির দাবি ও বিরোধ
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ মঙ্গলবার জানান, সাম্প্রতিক বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়ায় চারশো’রও বেশি মানুষ কারাগার থেকে ছাড়া হয়েছে, কিন্তু তিনি কখন তারা কারা থেকে বের হয় বা তাদের পরিচয় দেননি। তিনি বলেন এই বন্দিরা “রাজনৈতিক বন্দি নয়”, বরং যারা আইন ভঙ্গ করেছে এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছে তাদের ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ভাষণে। সরকারি এই তথ্যের প্রেক্ষাপটে বিরোধী নেতারা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে আসলে এই সংখ্যা অনেক কম এবং বাস্তবে মাত্র পষট্ট থেকে সত্তরের মতো লোকই ছাড়া হয়েছে।

সরকারি ও সংগঠনের বিভিন্ন হিসাব
ভেনেজুয়েলার কারা প্রশাসন আগে জানিয়েছিল সোমবার পর্যন্ত একশত ষোল জন বন্দিকে ছাড়া হয়েছে। অন্যদিকে, ফরো পেনাল নামের একটি প্রধান স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন বলেছে বছরের শুরুতে অন্তত আটশোর বেশি রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে ছিল এবং তারা ছাড়া হয়েছে বলে সরকারি দাবি যাচাই করতে পারছেনা। এই বিশাল পার্থক্য ও তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে কৌতূহল ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশটিতে।
অপজিশন ও মানবাধিকার উদ্বেগ
অপজিশনের নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদো এই বন্দি মুক্তির দাবির অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বন্দিদের মুক্তি এবং গণতন্ত্রের পথে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারগত ও অধিকার সংগঠনগুলো জনস্বার্থে অভিযোগ করেছে বন্দিদের সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে, চিকিৎসা সেবা নাকচ করা হচ্ছে, একটিাকৌকাঠের মতো শাস্তি দেয়া হচ্ছে, আইনজীবী সঙ্গে যোগাযোগ সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে এবং নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি নিয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে চাপ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















