বুধবার ডলারের বিপরীতে জাপানের মুদ্রা ইয়েন দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে নেমে গেছে। আকস্মিক নির্বাচনের সম্ভাবনা এবং বাড়তি সরকারি ব্যয়ের জল্পনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে বাজারে জোরালোভাবে ঘুরছে প্রশ্ন, ইয়েন ঠেকাতে কি শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপে নামবে টোকিও।
নির্বাচনী গুঞ্জন ও ইয়েনের চাপ
বাজারে লেনদেনের একপর্যায়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েন নেমে যায় প্রায় একশ ঊনষাট দশমিক পাঁচের কাছাকাছি, যা গত বছরের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন। এই চাপ আরও বেড়েছে পাঁচ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ড নিলামে প্রত্যাশার তুলনায় কম চাহিদার কারণে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারিতে আগাম নির্বাচন ডাকা হলে বড় আকারের আর্থিক প্রণোদনার পথ খুলে যেতে পারে, যা ইয়েনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

হস্তক্ষেপের শঙ্কায় বাজার
ইয়েন যখন একশ ষাটের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে, তখন ব্যবসায়ীরা সতর্ক নজরে রাখছেন সরকারি পদক্ষেপের দিকে। অতীতে দেখা গেছে, খুব দ্রুত পতন হলে জাপানি কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারও নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার চেয়ে গতির দিকটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অন্য মুদ্রার বিপরীতেও দুর্বলতা
শুধু ডলারের বিপরীতেই নয়, ইউরোসহ অন্যান্য প্রধান মুদ্রার তুলনাতেও ইয়েন দুর্বল হচ্ছে। ইউরোর বিপরীতে তো ইতিমধ্যেই রেকর্ড নিম্নে পৌঁছেছে জাপানের মুদ্রা। এতে করে ইয়েনের সামগ্রিক দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সরকারের সতর্কবার্তা
এ অবস্থায় জাপানের অর্থমন্ত্রী আবারও মৌখিক সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মুদ্রা ওঠানামার বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পরপরই বাজারে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও ইয়েনের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।
ডলার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি তথ্য প্রত্যাশার কাছাকাছি থাকায় ডলার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক এবং শুল্ক সংক্রান্ত সম্ভাব্য আদালতি রায়ের দিকেও তাকিয়ে আছে বাজার। এসব অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইয়েনই আপাতত সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















