চীন সফরে রওনা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বড় অর্থনৈতিক বার্তা পেল কানাডা। টানা কয়েক বছর প্রবৃদ্ধির পর প্রথমবারের মতো কানাডা থেকে পণ্য আমদানি কমিয়েছে চীন। সরকারি তথ্য বলছে, দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের সরাসরি প্রতিফলন পড়েছে বাণিজ্যে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
চীনের শুল্ক দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরে কানাডা থেকে চীনের আমদানি কমেছে প্রায় দশ দশমিক চার শতাংশ। মোট আমদানির পরিমাণ নেমে এসেছে চার এক দশমিক সাত বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের রেকর্ড চার ছয় দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মহামারির বছর দুই হাজার বিশের পর এই প্রথম কানাডা থেকে চীনে আমদানি কমল।
আমদানি হ্রাসের অর্থনৈতিক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতন কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, বরং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন। চীন স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে, বাণিজ্যকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। কানাডার জন্য এটি এক ধরনের সতর্ক সংকেত, বিশেষ করে এমন সময় যখন দেশটির অর্থনীতি বহির্বিশ্বের বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর
এই প্রেক্ষাপটেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা। দুই হাজার সতেরোর পর এই প্রথম কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাচ্ছেন। সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমানো এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ খোঁজা।
শুল্ক আরোপে বাড়ে দূরত্ব
দুই হাজার চব্বিশ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অনুসরণে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করলে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে চীন কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য ক্যানোলার বাজার কার্যত বন্ধ করে দেয়। সেই ক্ষত এখনো পুরোপুরি সারেনি।
বেইজিংয়ের প্রত্যাশা ও বার্তা
কার্নির সফরের আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কানাডাকে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চীনবিরোধী নীতি গ্রহণ করাই গত কয়েক বছরের সম্পর্কের অবনতির মূল কারণ। চীনের মতে, দ্বিপক্ষীয় পার্থক্যগুলো বাস্তববাদীভাবে সামাল দিতে পারলে কানাডার স্বার্থই বেশি সুরক্ষিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা
কার্নির চীনমুখী কূটনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য টানাপোড়েনের ফলও বটে। গত বছর ওয়াশিংটনের শুল্ক আরোপ এবং রাজনৈতিক চাপ কানাডাকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করেছে। সেই বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে বৃহত্তর ইঙ্গিত
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীন গত বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আমদানি কমিয়েছে। চীনের পরিসংখ্যান বলছে, সেখানে পতনের হার ছিল প্রায় চৌদ্দ দশমিক ছয় শতাংশ। অর্থাৎ বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে চাপ ও পাল্টা চাপের রাজনীতি আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















