০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে চাপ দেবেন শি, ১৯৮২ সালের চুক্তির দোহাইয়ে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি ভারতে ইউপিআইয়ে নতুন ফি, আরও শক্তিশালী হবে PhonePe-গুগল পে নাইজেরিয়ায় হেফাজতে ৩৭ খনি শ্রমিকের মৃত্যু, বেঁচে ফেরাদের ভয়াবহ বর্ণনা ট্রাম্প-শি বৈঠকে তিন ‘টি’: বাণিজ্যে সামান্য অগ্রগতি, তাইওয়ানে অনড়তা, প্রযুক্তিতে অনিশ্চয়তা সৌদি আরবকে হুথি হামলা ঠেকাতে সামরিক সহায়তা দেবে ব্রিটেন, জ্বালানি সংকটের শঙ্কা নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে বাসে ককটেল-আগুনের নেপথ্যে কারা: রাশেদ খাঁন ব্যয় সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত: তথ্য উপদেষ্টা চট্টগ্রামে ৮ হাজারের পথে হাম রোগী, নেই স্থানীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, যাত্রীদের বাদ দিয়ে সিদ্ধান্তের অভিযোগ

নিম্ন কার্বন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির ইঙ্গিত বিএপির

ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট বিএপি তাদের নিম্ন কার্বন জ্বালানি ব্যবসায় বড় ধরনের সম্পদমূল্য হ্রাসের মুখে পড়তে যাচ্ছে। চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হিসাবভুক্ত করতে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। নতুন নেতৃত্বে তেল ও গ্যাসে বিনিয়োগ বাড়িয়ে মুনাফা ফেরানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই স্বীকৃতি দিয়েছে বিএপি।

নেতৃত্ব বদল ও কৌশল পরিবর্তন
বিএপির এক বাণিজ্যিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ক্ষতি তাদের মূল নিট মুনাফার হিসাবে ধরা হবে না। তবে কোন প্রকল্পগুলোতে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি কোম্পানিটি। অন্তর্বর্তী প্রধানের বিদায়ের পর এপ্রিল থেকে নতুন প্রধান নির্বাহী দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে, যিনি কোম্পানির আয় ও শেয়ারমূল্য বাড়াতে জোর দিচ্ছেন। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ায় বিএপি এখন আগের কৌশল থেকে সরে আসছে।

জ্বালানি রূপান্তরে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত
প্রায় এক বছর আগে বিএপি তাদের জ্বালানি রূপান্তর খাতে বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। আগে যেখানে এই খাতে সাত বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল, সেখানে তা নামিয়ে আনা হয় সর্বোচ্চ দুই বিলিয়নে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসায় অংশীদারিত্ব বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ কার্যক্রম যৌথ উদ্যোগে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ইউরোপে একটি জৈব জ্বালানি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।

দাম কমায় আয়ে চাপ
চতুর্থ প্রান্তিকে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক দামের পতন বিএপির আয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কোম্পানির মতে, তেলের দাম কমে যাওয়ায় আয় কমতে পারে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। একইভাবে গ্যাসের দুর্বল দামও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অপরিশোধিত তেলের গড় দাম আগের প্রান্তিকের তুলনায় নিচে নেমে এসেছে।

ঋণ কমলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে বিএপি তাদের নিট ঋণ কমাতে পেরেছে। চলতি বছরের শেষে এই ঋণ কমে বাইশ থেকে তেইশ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে নামতে পারে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘমেয়াদে ঋণ আরও কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও করহার বৃদ্ধি ও পরিশোধন খাতের সমস্যাগুলো কোম্পানির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে চাপ দেবেন শি, ১৯৮২ সালের চুক্তির দোহাইয়ে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি

নিম্ন কার্বন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির ইঙ্গিত বিএপির

০৮:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট বিএপি তাদের নিম্ন কার্বন জ্বালানি ব্যবসায় বড় ধরনের সম্পদমূল্য হ্রাসের মুখে পড়তে যাচ্ছে। চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হিসাবভুক্ত করতে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। নতুন নেতৃত্বে তেল ও গ্যাসে বিনিয়োগ বাড়িয়ে মুনাফা ফেরানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই স্বীকৃতি দিয়েছে বিএপি।

নেতৃত্ব বদল ও কৌশল পরিবর্তন
বিএপির এক বাণিজ্যিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ক্ষতি তাদের মূল নিট মুনাফার হিসাবে ধরা হবে না। তবে কোন প্রকল্পগুলোতে এই ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি কোম্পানিটি। অন্তর্বর্তী প্রধানের বিদায়ের পর এপ্রিল থেকে নতুন প্রধান নির্বাহী দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে, যিনি কোম্পানির আয় ও শেয়ারমূল্য বাড়াতে জোর দিচ্ছেন। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়ায় বিএপি এখন আগের কৌশল থেকে সরে আসছে।

জ্বালানি রূপান্তরে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত
প্রায় এক বছর আগে বিএপি তাদের জ্বালানি রূপান্তর খাতে বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। আগে যেখানে এই খাতে সাত বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল, সেখানে তা নামিয়ে আনা হয় সর্বোচ্চ দুই বিলিয়নে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবসায় অংশীদারিত্ব বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ কার্যক্রম যৌথ উদ্যোগে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ইউরোপে একটি জৈব জ্বালানি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।

দাম কমায় আয়ে চাপ
চতুর্থ প্রান্তিকে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক দামের পতন বিএপির আয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কোম্পানির মতে, তেলের দাম কমে যাওয়ায় আয় কমতে পারে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। একইভাবে গ্যাসের দুর্বল দামও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অপরিশোধিত তেলের গড় দাম আগের প্রান্তিকের তুলনায় নিচে নেমে এসেছে।

ঋণ কমলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে বিএপি তাদের নিট ঋণ কমাতে পেরেছে। চলতি বছরের শেষে এই ঋণ কমে বাইশ থেকে তেইশ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে নামতে পারে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘমেয়াদে ঋণ আরও কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও করহার বৃদ্ধি ও পরিশোধন খাতের সমস্যাগুলো কোম্পানির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।