লন্ডনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারকেরা সুদের হার আরও কমানোর পথে এগোতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারক অ্যালান টেলর জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় সুদের হার ধাপে ধাপে কমানো সম্ভব হচ্ছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
মূল্যস্ফীতির নতুন পূর্বাভাস
অ্যালান টেলরের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের পূর্বাভাসে যেখানে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সময় ধরা হয়েছিল দুই হাজার সাতাশ সাল পর্যন্ত, সেখানে এখন ধারণা করা হচ্ছে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের মাঝামাঝিতেই মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই শতাংশ লক্ষ্যের কাছাকাছি স্থিতিশীল হবে। মজুরি বৃদ্ধির গতি কমে আসাও এই সম্ভাবনাকে টেকসই করছে বলে মনে করছেন তিনি।

সুদের হার কমার সম্ভাব্য পথ
টেলর বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ কমলে মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। সেই প্রেক্ষাপটে সুদের হার নিরপেক্ষ পর্যায়ে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। সাম্প্রতিক তথ্য উপাত্ত তার পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল থাকায় সুদের হার নিম্নমুখী থাকতেই পারে বলে তিনি আশাবাদী।
নীতিনির্ধারণী কমিটির সিদ্ধান্ত
গত ডিসেম্বর মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারণী কমিটির পাঁচ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় মূল সুদের হার চার শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন দশমিক সাত পাঁচ শতাংশে নামানো হয়। যদিও কমিটির চার সদস্য তখন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
গভর্নরের বক্তব্য ও বিনিয়োগকারীদের ধারণা
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি জানিয়েছেন, সর্বশেষ হিসাবে তিন দশমিক দুই শতাংশ থাকা মূল্যস্ফীতি চলতি বছরের এপ্রিল বা মে মাসে প্রায় দুই শতাংশে নেমে আসতে পারে। বাজারে বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে ধারণা করছেন, দুই হাজার ছাব্বিশ সালে আরও দুই দফা সুদের হার কমতে পারে।

বিশ্ব বাণিজ্য ও মূল্যস্ফীতি চাপ
অ্যালান টেলর তার বক্তব্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্কসহ নানা ধাক্কার পরও দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, মসৃণ বৈশ্বিক বাণিজ্য শেষ পর্যন্ত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় এবং এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















