ইরানে সম্ভাব্য তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম। টানা পঞ্চম দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী এই প্রবণতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
লন্ডনের বাজারে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি শূন্য দশমিক আট চার ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছেষট্টি দশমিক তিন এক ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম বেড়ে হয়েছে একষট্টি দশমিক নয় ছয় ডলার। ইরানে চলমান সহিংস বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হুমকি পাল্টা হুমকির প্রেক্ষাপটে এই দাম বৃদ্ধিকে বাজার বিশ্লেষকেরা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
![]()
ইরান ঘিরে উত্তেজনা ও সরবরাহ শঙ্কা
ইরানের বিক্ষোভ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। তেহরান থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এরই মধ্যে কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের বিক্ষোভ শুধু অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেকের চোখে এই আন্দোলন সরকার পরিবর্তনের দিকেও গড়াতে পারে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন বার্তা ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহায়তা আসছে। কী ধরনের সহায়তা, তা স্পষ্ট না হলেও এই বক্তব্য বাজারে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা তেলের দামে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ করছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের প্রধান তেল উৎপাদন অঞ্চলে এখনো বিক্ষোভ ছড়িয়ে না পড়ায় বাস্তব সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগেনি। তবে আশঙ্কার কারণে বাজারে দাম বাড়ছে।
মার্কিন মজুত বৃদ্ধি ও চাপ
তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধির খবরে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে প্রায় পঞ্চাশ লাখ ব্যারেলের বেশি। একই সময়ে পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা দেশে এই বাড়তি মজুত সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার রপ্তানি ফের শুরু
দামের ঊর্ধ্বগতিতে আরেকটি নিয়ন্ত্রণকারী বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে ভেনেজুয়েলা। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর দেশটি আবারও তেল উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক দিনে ভেনেজুয়েলার জলসীমা ছাড়িয়েছে দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ, প্রতিটিতে প্রায় আঠারো লাখ ব্যারেল তেল। এটি কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন সরবরাহ চুক্তির প্রথম চালান বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ঘিরে উত্তেজনা যতদিন থাকবে, ততদিন তেলের বাজার অস্থির থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি মজুত ও ভেনেজুয়েলার সরবরাহ ফিরে আসা দামের লাগাম টেনে ধরতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















