ইরানকে ঘিরে আবারও জটিল দ্বিমুখী পথে হাঁটছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে তিনি তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন, অন্যদিকে সামরিক হামলার বিকল্পও সামনে রাখছেন। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমন এবং সেখানে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি প্রতিদিন বদলাচ্ছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভ ও দমন ঘিরে লাল দাগ
গত বছরের শেষ দিক থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার এসব আন্দোলন দমাতে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী এতে বহু সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান সেই লাল দাগ অতিক্রম করেছে।
সামরিক বিকল্প নিয়ে হোয়াইট হাউসের হিসাব
পেন্টাগন প্রেসিডেন্টকে আগের তুলনায় বিস্তৃত সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পরিকল্পনা। তবে প্রশাসনের একাংশের মতে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয় বরং সীমিত আঘাত বা সাইবার হামলার দিকেই ঝুঁকছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, কূটনীতিই তাদের প্রথম পছন্দ, তবে সব পথ খোলা রাখা হয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধে যোগাযোগের নতুন ভাবনা
বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত ও অনেক জায়গায় বন্ধ করে দেয়। এতে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রযুক্তি খাতের এক শীর্ষ উদ্যোক্তাকে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার সম্ভাবনা যাচাই করতে বলেছেন, যাতে ইরানি নাগরিকরা বিকল্প পথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন।
তেহরানের নরম সুর ও আলোচনার ইঙ্গিত
চাপের মুখে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাদের ভাষায়, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে তারা পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনার কথা বলছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, এই প্রস্তাব সময় ক্ষেপণের কৌশলও হতে পারে।
পরমাণু ইস্যুতে আস্থাহীনতা
ইরান দাবি করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আশঙ্কা, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির পথে যেতে পারে। অতীতে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে কর্মসূচি সীমিত করা হয়েছিল, কিন্তু সেই চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের দরকষাকষির সক্ষমতাও কমেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ভেতরের চাপ ও বাইরের বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখন একসঙ্গে অভ্যন্তরীণ গণচাপ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। সরকার টিকে থাকার কৌশলে অভিজ্ঞ হলেও সহিংসতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সরকার পতনের চেয়ে বেশি প্রতীকী বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই বিবেচিত হচ্ছে, যাতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















