০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, ইরানকে বললেন “নরক নেমে আসবে” আজ থেকে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান, ১৮ জেলায় প্রচারাভিযান শুরু ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আফ্রিকার তেল জাগরণ, নতুন বিনিয়োগে বদলাচ্ছে জ্বালানি মানচিত্র বাংলাদেশ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন, পেনাল্টিতে হারলো ভারত মালদ্বীপে আগুনে ৫ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু, ২ জন গুরুতর আহত ব্রিটেনে অভিবাসন নীতি ঝুঁকির মুখে: তথ্যের ঘাটতি বাধাগ্রস্ত করছে পরিকল্পনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা, জুনে নির্বাচন রাজশাহী-খুলনায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে: বিশ্বব্যাংকের গভীর উদ্বেগ মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেলের জাহাজ আসছে আজ চট্টগ্রামে, জ্বালানি সংকট সামলাতে বিকল্প পথে আমদানি

তিন শর্তে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর আওতায় বাংলাদেশ সেনা পাঠাতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে তিনটি স্পষ্ট শর্ত পূরণের ওপর। এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে বাংলাদেশ এতে যুক্ত হবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কারা এই উদ্যোগের অংশ হবেন, সেটিও নির্ধারিত হয়নি। তবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই তিনটি মৌলিক শর্ত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে এবং এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করা হবে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ও সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এ ধরনের বিষয় আলোচনায় আসা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও সরকার এখনো দায়িত্বে রয়েছে। দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান বা স্বার্থ হঠাৎ করে বদলায় না। জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

তিনি আরও বলেন, সামনে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, তা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী একটি বৈশ্বিক বিষয় এবং এটি কেবল বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করে না।

মুসলিম দেশগুলোর আগ্রহ
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, কয়েকটি মুসলিম দেশ গাজার আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, গাজার জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাংলাদেশ স্বীকার করে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর আগ্রহের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই বাহিনীতে অংশগ্রহণের বিষয়টি কয়েকটি নীতির ওপর নির্ভর করে দেখছে।

বাংলাদেশের তিন শর্ত
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী হতে হবে অস্থায়ী এবং স্পষ্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত। গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে, সব ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবিচল অবস্থানে রয়েছে।

গাজা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান
প্রেস সচিব বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং এর অবিলম্বে অবসান ও গাজা থেকে সব ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব
বাংলাদেশ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ২৮০৩ গ্রহণ করে, যেখানে গাজার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের সব মুসলিম সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেয়।

প্রেস সচিব জানান, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ যৌথভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রস্তাব গ্রহণের সুপারিশ করেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, ইরানকে বললেন “নরক নেমে আসবে”

তিন শর্তে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

০৭:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর আওতায় বাংলাদেশ সেনা পাঠাতে পারে, তবে তা নির্ভর করবে তিনটি স্পষ্ট শর্ত পূরণের ওপর। এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হলে বাংলাদেশ এতে যুক্ত হবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কারা এই উদ্যোগের অংশ হবেন, সেটিও নির্ধারিত হয়নি। তবে বাংলাদেশ শুরু থেকেই তিনটি মৌলিক শর্ত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে এবং এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করা হবে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ও সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এ ধরনের বিষয় আলোচনায় আসা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও সরকার এখনো দায়িত্বে রয়েছে। দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান বা স্বার্থ হঠাৎ করে বদলায় না। জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

তিনি আরও বলেন, সামনে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, তা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী একটি বৈশ্বিক বিষয় এবং এটি কেবল বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করে না।

মুসলিম দেশগুলোর আগ্রহ
অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, কয়েকটি মুসলিম দেশ গাজার আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, গাজার জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাংলাদেশ স্বীকার করে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর আগ্রহের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই বাহিনীতে অংশগ্রহণের বিষয়টি কয়েকটি নীতির ওপর নির্ভর করে দেখছে।

বাংলাদেশের তিন শর্ত
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী হতে হবে অস্থায়ী এবং স্পষ্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত। গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে, সব ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতে হস্তান্তর করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবিচল অবস্থানে রয়েছে।

গাজা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান
প্রেস সচিব বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং এর অবিলম্বে অবসান ও গাজা থেকে সব ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব
বাংলাদেশ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ২৮০৩ গ্রহণ করে, যেখানে গাজার জন্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের সব মুসলিম সদস্য রাষ্ট্র ভোট দেয়।

প্রেস সচিব জানান, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ যৌথভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রস্তাব গ্রহণের সুপারিশ করেছিল।