১০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সাংবিধানিক পরিবর্তন শুধু আইনের প্রশ্ন নয়, রাষ্ট্রের নৈতিক অঙ্গীকারও ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ, উত্তর ইরাকে ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে প্রাণ হারান সার্জেন্ট সুইন্টন ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৩৮; জুলাইতেই প্রাণ গেল ২০ জন টানা বৃষ্টিতে মানিকগঞ্জে ২২২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট, সবজির দামে চার গুণ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতি নাগেশ্বরীতে নদীভাঙনের তাণ্ডব: এক মাসে নদীগর্ভে ৩০০-এর বেশি ঘর, আতঙ্কে শত শত পরিবার বিশ্বকাপ শেষ, এবার ক্লাব ফুটবলে নজর: মেসি-এমবাপ্পে-ইয়ামালদের নতুন মৌসুমে কী অপেক্ষা করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরতে রোডম্যাপ চান গ্রাহকরা, ‘হেয়ারকাট’ বাতিলের গেজেট প্রকাশের দাবি রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক দিল্লি পুলিশের, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পথে কংগ্রেসের বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১০ম দফা হামলা, পাল্টা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র: হরমুজ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হুথিদের নতুন ঘোষণা: সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ লাখ টন প্রিমিয়াম মানের চাল আমদানির জন্য প্রায় ৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান। প্রস্তাবিত দর অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের মূল্য ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৬ টাকার সমান। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এর মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়া।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় খাদ্য সংরক্ষণ সংস্থা বুলগের প্রধান পরিচালক আহমাদ রিজাল রামধানি জানিয়েছেন, পূর্ব জাভার সুরাবায়ায় অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকের পর এখন চুক্তির কারিগরি ও মূল্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির আগ্রহ দেখানো হয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এখন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রিমিয়াম মানের চাল

আলোচনায় থাকা চালের চালানগুলো প্রিমিয়াম গ্রেডের। এ ধরনের চালে ভাঙা দানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে এটি উচ্চমানের চাল হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হয়।

চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি

বুলগ জানিয়েছে, চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে সংস্থাটির পরিচালক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের একটি দল মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে যাবে। সেখানে চাল সরবরাহের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রাথমিকভাবে দুটি পরিবহন ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে। একটি হলো সমুদ্রপথে বন্দর থেকে বন্দরে চাল পাঠানো, অন্যটি হলো পশ্চিম কালিমানতানের সাঙ্গাউ অঞ্চলের এন্টিকং সীমান্তপথ ব্যবহার করে স্থলপথে সরবরাহ করা।

স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর রপ্তানির সুযোগ

ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী আমরান সুলাইমান চলতি বছরের শুরুতে বলেছিলেন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কারণে ২০২৬ সালে দেশটি চাল রপ্তানির জন্য অনুকূল অবস্থানে রয়েছে।

তার মতে, চাল আমদানি বন্ধ রাখার ফলে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একসময় প্রতি টন চালের দাম ৬৬০ ডলার থাকলেও তা কমে ৩৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সতর্কতা

তবে ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগাম শুষ্ক মৌসুম এবং ২০২৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্ভাব্য মাঝারি মাত্রার এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়া আরও উষ্ণ ও শুষ্ক হতে পারে।

এর ফলে অনেক কৃষক কম পানিনির্ভর ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকতে পারেন। একই জমিতে ধান ও ভুট্টা চাষের প্রতিযোগিতা থাকায় আগামী মৌসুমগুলোতে ধানের আবাদ কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবু শক্তিশালী কৃষি উৎপাদনের কারণে ইন্দোনেশিয়া এখনো মাঝারি মানের চাল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটি চিনি আমদানিও কমানোর পরিকল্পনা করছে। সরকার আশা করছে, পূর্ব জাভার বৃহৎ আখচাষ প্রকল্প দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং আমদানিনির্ভরতা আরও কমাবে।

 

#চাল #চালেরদাম #ইন্দোনেশিয়া #মালয়েশিয়া #চালরপ্তানি #খাদ্যবাজার #কৃষি #আন্তর্জাতিকবাণিজ্য #এশিয়াঅর্থনীতি #বিশ্ববাজার

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবিধানিক পরিবর্তন শুধু আইনের প্রশ্ন নয়, রাষ্ট্রের নৈতিক অঙ্গীকারও

চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া

১২:৩০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ লাখ টন প্রিমিয়াম মানের চাল আমদানির জন্য প্রায় ৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের একটি প্রস্তাব দিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান। প্রস্তাবিত দর অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের মূল্য ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৬ টাকার সমান। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে এর মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়া।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় খাদ্য সংরক্ষণ সংস্থা বুলগের প্রধান পরিচালক আহমাদ রিজাল রামধানি জানিয়েছেন, পূর্ব জাভার সুরাবায়ায় অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকের পর এখন চুক্তির কারিগরি ও মূল্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির আগ্রহ দেখানো হয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এখন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রিমিয়াম মানের চাল

আলোচনায় থাকা চালের চালানগুলো প্রিমিয়াম গ্রেডের। এ ধরনের চালে ভাঙা দানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে এটি উচ্চমানের চাল হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হয়।

চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি

বুলগ জানিয়েছে, চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে সংস্থাটির পরিচালক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের একটি দল মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে যাবে। সেখানে চাল সরবরাহের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রাথমিকভাবে দুটি পরিবহন ব্যবস্থা বিবেচনায় রয়েছে। একটি হলো সমুদ্রপথে বন্দর থেকে বন্দরে চাল পাঠানো, অন্যটি হলো পশ্চিম কালিমানতানের সাঙ্গাউ অঞ্চলের এন্টিকং সীমান্তপথ ব্যবহার করে স্থলপথে সরবরাহ করা।

স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর রপ্তানির সুযোগ

ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী আমরান সুলাইমান চলতি বছরের শুরুতে বলেছিলেন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কারণে ২০২৬ সালে দেশটি চাল রপ্তানির জন্য অনুকূল অবস্থানে রয়েছে।

তার মতে, চাল আমদানি বন্ধ রাখার ফলে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একসময় প্রতি টন চালের দাম ৬৬০ ডলার থাকলেও তা কমে ৩৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

এল নিনোর প্রভাব নিয়ে সতর্কতা

তবে ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগাম শুষ্ক মৌসুম এবং ২০২৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সম্ভাব্য মাঝারি মাত্রার এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়া আরও উষ্ণ ও শুষ্ক হতে পারে।

এর ফলে অনেক কৃষক কম পানিনির্ভর ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকতে পারেন। একই জমিতে ধান ও ভুট্টা চাষের প্রতিযোগিতা থাকায় আগামী মৌসুমগুলোতে ধানের আবাদ কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবু শক্তিশালী কৃষি উৎপাদনের কারণে ইন্দোনেশিয়া এখনো মাঝারি মানের চাল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটি চিনি আমদানিও কমানোর পরিকল্পনা করছে। সরকার আশা করছে, পূর্ব জাভার বৃহৎ আখচাষ প্রকল্প দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং আমদানিনির্ভরতা আরও কমাবে।

 

#চাল #চালেরদাম #ইন্দোনেশিয়া #মালয়েশিয়া #চালরপ্তানি #খাদ্যবাজার #কৃষি #আন্তর্জাতিকবাণিজ্য #এশিয়াঅর্থনীতি #বিশ্ববাজার