০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী বাবাকে হারিয়ে বদলে যাওয়ার লড়াই, অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন সালগাদো ভাইয়েরা ঢাকা মেডিকেলে দুই হাজতির মৃত্যু

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডজুড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি নতুন ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীগুলো নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজিয়ে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বজায় রেখেই নতুন নেতৃত্ব সামনে আনা হচ্ছে, যা এসব দেশের কর্তৃত্ববাদী শাসনকে আরও শক্ত ভিত দিচ্ছে।

ভিয়েতনামে ক্ষমতার কেন্দ্রে তো লাম

ভিয়েতনামের নেতা তো লাম বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ দলীয় ও রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছেন। এর ফলে অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পররাষ্ট্রনীতিতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

কম্বোডিয়ায় প্রজন্ম বদলের রাজনীতি

কম্বোডিয়ায় দীর্ঘদিনের শাসকগোষ্ঠী নতুন প্রজন্মকে সামনে এনে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। প্রবীণ নেতাদের উত্তরসূরিরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করায় শাসনব্যবস্থায় নতুন চেহারা এসেছে। একই সময়ে সীমান্ত উত্তেজনা ও জাতীয়তাবাদী আবেগ সরকারের প্রতি জনসমর্থন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

থাইল্যান্ডে রক্ষণশীলদের প্রত্যাবর্তন

থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক নির্বাচনে রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তির বিজয় দেশটির রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বহু বছর ধরে সামরিক ও রাজতান্ত্রিক প্রভাবের মাধ্যমে পরিচালিত রাজনৈতিক কাঠামো এবার নির্বাচনী বৈধতার নতুন ভিত্তি পেয়েছে। ফলে দেশটিতে আপাত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

llliberal leaders in mainland South-East Asia revamp their regimes

মিয়ানমারে সংকটের মধ্যেও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস

মিয়ানমারে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলেও সামরিক সরকার নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সুযোগ পেয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থা নতুন রূপ পেলেও দেশটির সামগ্রিক সংকট এখনো দূর হয়নি।

জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার চাপ

এই দেশগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জ্বালানি সংকট। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ঘাটতি এবং কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকলে সামাজিক অসন্তোষও বৃদ্ধি পেতে পারে।

চীনের প্রভাব ও আঞ্চলিক সমন্বয়ের প্রশ্ন

দীর্ঘমেয়াদে এই দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হলো চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করা। অঞ্চলটির অর্থনীতি বহু বছর ধরে চীনের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো, জ্বালানি সম্পদ ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিরোধ ও সীমান্ত উত্তেজনা এখনো সেই পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

নতুন আঞ্চলিক নেতৃত্বের সম্ভাবনা

পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় ভিয়েতনামের তো লাম আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। আগামী সময়ে তার কূটনৈতিক সাফল্য পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন নেতৃত্ব ও পুরোনো ক্ষমতার সমন্বয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

১১:৩৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডজুড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি নতুন ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীগুলো নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজিয়ে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বজায় রেখেই নতুন নেতৃত্ব সামনে আনা হচ্ছে, যা এসব দেশের কর্তৃত্ববাদী শাসনকে আরও শক্ত ভিত দিচ্ছে।

ভিয়েতনামে ক্ষমতার কেন্দ্রে তো লাম

ভিয়েতনামের নেতা তো লাম বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ দলীয় ও রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছেন। এর ফলে অর্থনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পররাষ্ট্রনীতিতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

কম্বোডিয়ায় প্রজন্ম বদলের রাজনীতি

কম্বোডিয়ায় দীর্ঘদিনের শাসকগোষ্ঠী নতুন প্রজন্মকে সামনে এনে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। প্রবীণ নেতাদের উত্তরসূরিরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করায় শাসনব্যবস্থায় নতুন চেহারা এসেছে। একই সময়ে সীমান্ত উত্তেজনা ও জাতীয়তাবাদী আবেগ সরকারের প্রতি জনসমর্থন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

থাইল্যান্ডে রক্ষণশীলদের প্রত্যাবর্তন

থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক নির্বাচনে রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তির বিজয় দেশটির রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বহু বছর ধরে সামরিক ও রাজতান্ত্রিক প্রভাবের মাধ্যমে পরিচালিত রাজনৈতিক কাঠামো এবার নির্বাচনী বৈধতার নতুন ভিত্তি পেয়েছে। ফলে দেশটিতে আপাত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

llliberal leaders in mainland South-East Asia revamp their regimes

মিয়ানমারে সংকটের মধ্যেও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস

মিয়ানমারে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলেও সামরিক সরকার নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সুযোগ পেয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থা নতুন রূপ পেলেও দেশটির সামগ্রিক সংকট এখনো দূর হয়নি।

জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার চাপ

এই দেশগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জ্বালানি সংকট। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ঘাটতি এবং কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকলে সামাজিক অসন্তোষও বৃদ্ধি পেতে পারে।

চীনের প্রভাব ও আঞ্চলিক সমন্বয়ের প্রশ্ন

দীর্ঘমেয়াদে এই দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হলো চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করা। অঞ্চলটির অর্থনীতি বহু বছর ধরে চীনের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো, জ্বালানি সম্পদ ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে রাজনৈতিক বিরোধ ও সীমান্ত উত্তেজনা এখনো সেই পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

নতুন আঞ্চলিক নেতৃত্বের সম্ভাবনা

পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় ভিয়েতনামের তো লাম আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। আগামী সময়ে তার কূটনৈতিক সাফল্য পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন নেতৃত্ব ও পুরোনো ক্ষমতার সমন্বয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।