০২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সম্প্রতি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা বর্তমানে যাকে ‘অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা’ বলা হয়, সে সম্পর্কিত ১৭০টিরও বেশি নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে কয়েক দশক ধরে জমা হওয়া বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, পাইলটদের রিপোর্ট এবং সামরিক পর্যবেক্ষণের তথ্য রয়েছে। নতুন এই প্রকাশনা আবারও ইউএফও নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাত দশকের পুরোনো রহস্য

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ১৯৫২ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনার একটি রাসায়নিক কারখানার দুই কর্মী রাতের আকাশে নীল রঙের আলো এবং কমলা আভাযুক্ত চাকতির মতো একটি বস্তু দেখতে পান। তাদের দাবি, বস্তুটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে উড়ে যাচ্ছিল। ঘটনাটি সে সময় তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

আরেকটি ঘটনা ঘটে ১৯৫০ সালে। দুই পুলিশ কর্মকর্তা টহল দেওয়ার সময় একটি খোলা মাঠে প্রায় ছয় ফুট চওড়া অদ্ভুত একটি বস্তু নামতে দেখেন। তারা বস্তুটির কাছে গিয়ে পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বস্তুটি বেগুনি আভা ছড়াচ্ছিল এবং কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে ভেঙে গিয়ে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। পেছনে শুধু সামান্য অবশিষ্টাংশ রয়ে যায়।

যাত্রীবাহী বিমানের পাইলটদের অভিজ্ঞতা

নথিতে বাণিজ্যিক বিমানের পাইলটদের দেওয়া রিপোর্টও রয়েছে। ১৯৪৭ সালে একটি যাত্রীবাহী বিমান উত্তর আটলান্টিক অতিক্রম করার সময় সোনালি রঙের নলাকার একটি উড়ন্ত বস্তু দেখতে পায়। পাইলটদের মতে, বস্তুটি বিমানটির দুই পাশে দেখা যায় এবং প্রায় দেড় মিনিট দৃশ্যমান থাকার পর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।

মহাকাশচারীদের নজরেও অজানা বস্তু

১৯৬৫ সালে একটি মহাকাশ মিশনের সময় দুই মার্কিন মহাকাশচারী কক্ষপথে অবস্থানকালে এমন একটি বড় আকারের বস্তু দেখতে পান, যার ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেননি। যোগাযোগ রেকর্ডে ঘটনাটি উল্লেখ করা হয় এবং পরবর্তী নথিপত্রে সেটিকে ইউএফও পর্যবেক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নৌবাহিনীর ভিডিওতে নতুন আলোড়ন

সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি সামরিক পর্যবেক্ষণ। ২০২০ সালে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহলরত একটি সামরিক বিমানের পাইলট একটি উজ্জ্বল আলোকবিন্দুকে অস্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখেন। ভিডিওতে বস্তুটি এক মিনিটেরও বেশি সময় দৃশ্যমান ছিল।

২০২৪ সালের আরেকটি ঘটনায় একটি ডিম্বাকৃতি বা ফুটবলের মতো আকৃতির বস্তু দেখা যায়, যার সঙ্গে তিনটি পাখনার মতো অংশ ছিল। সেটি মাত্র কয়েক সেকেন্ড দৃশ্যমান থাকলেও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

এছাড়া ২০১৩ সালের একটি ঘটনার নতুন তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আট কোণবিশিষ্ট তারকার মতো দেখতে একটি বস্তু সামরিক বিমানের সামনে দ্রুত গতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। বস্তুটি আকাশে বিভিন্ন কৌশলী গতিবিধি প্রদর্শন করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রহস্যের সমাধান এখনো অধরা

পেন্টাগনের প্রকাশিত নথিগুলোর কোনো ঘটনাই এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়নি। ফলে এগুলো নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও ধাপে ধাপে আরও নথি প্রকাশ করা হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এসব ঘটনার বিষয়ে জনসাধারণের সামনে আরও তথ্য আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত

০১:৪৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সম্প্রতি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা বর্তমানে যাকে ‘অজ্ঞাত অস্বাভাবিক ঘটনা’ বলা হয়, সে সম্পর্কিত ১৭০টিরও বেশি নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলোতে কয়েক দশক ধরে জমা হওয়া বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, পাইলটদের রিপোর্ট এবং সামরিক পর্যবেক্ষণের তথ্য রয়েছে। নতুন এই প্রকাশনা আবারও ইউএফও নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাত দশকের পুরোনো রহস্য

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ১৯৫২ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনার একটি রাসায়নিক কারখানার দুই কর্মী রাতের আকাশে নীল রঙের আলো এবং কমলা আভাযুক্ত চাকতির মতো একটি বস্তু দেখতে পান। তাদের দাবি, বস্তুটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে উড়ে যাচ্ছিল। ঘটনাটি সে সময় তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

আরেকটি ঘটনা ঘটে ১৯৫০ সালে। দুই পুলিশ কর্মকর্তা টহল দেওয়ার সময় একটি খোলা মাঠে প্রায় ছয় ফুট চওড়া অদ্ভুত একটি বস্তু নামতে দেখেন। তারা বস্তুটির কাছে গিয়ে পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বস্তুটি বেগুনি আভা ছড়াচ্ছিল এবং কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে ভেঙে গিয়ে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। পেছনে শুধু সামান্য অবশিষ্টাংশ রয়ে যায়।

যাত্রীবাহী বিমানের পাইলটদের অভিজ্ঞতা

নথিতে বাণিজ্যিক বিমানের পাইলটদের দেওয়া রিপোর্টও রয়েছে। ১৯৪৭ সালে একটি যাত্রীবাহী বিমান উত্তর আটলান্টিক অতিক্রম করার সময় সোনালি রঙের নলাকার একটি উড়ন্ত বস্তু দেখতে পায়। পাইলটদের মতে, বস্তুটি বিমানটির দুই পাশে দেখা যায় এবং প্রায় দেড় মিনিট দৃশ্যমান থাকার পর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।

মহাকাশচারীদের নজরেও অজানা বস্তু

১৯৬৫ সালে একটি মহাকাশ মিশনের সময় দুই মার্কিন মহাকাশচারী কক্ষপথে অবস্থানকালে এমন একটি বড় আকারের বস্তু দেখতে পান, যার ব্যাখ্যা তারা দিতে পারেননি। যোগাযোগ রেকর্ডে ঘটনাটি উল্লেখ করা হয় এবং পরবর্তী নথিপত্রে সেটিকে ইউএফও পর্যবেক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নৌবাহিনীর ভিডিওতে নতুন আলোড়ন

সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি সামরিক পর্যবেক্ষণ। ২০২০ সালে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহলরত একটি সামরিক বিমানের পাইলট একটি উজ্জ্বল আলোকবিন্দুকে অস্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখেন। ভিডিওতে বস্তুটি এক মিনিটেরও বেশি সময় দৃশ্যমান ছিল।

২০২৪ সালের আরেকটি ঘটনায় একটি ডিম্বাকৃতি বা ফুটবলের মতো আকৃতির বস্তু দেখা যায়, যার সঙ্গে তিনটি পাখনার মতো অংশ ছিল। সেটি মাত্র কয়েক সেকেন্ড দৃশ্যমান থাকলেও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

এছাড়া ২০১৩ সালের একটি ঘটনার নতুন তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আট কোণবিশিষ্ট তারকার মতো দেখতে একটি বস্তু সামরিক বিমানের সামনে দ্রুত গতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। বস্তুটি আকাশে বিভিন্ন কৌশলী গতিবিধি প্রদর্শন করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রহস্যের সমাধান এখনো অধরা

পেন্টাগনের প্রকাশিত নথিগুলোর কোনো ঘটনাই এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়নি। ফলে এগুলো নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও ধাপে ধাপে আরও নথি প্রকাশ করা হবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এসব ঘটনার বিষয়ে জনসাধারণের সামনে আরও তথ্য আসতে পারে।