আসাদ সরকারের পতনের পর লেবাননে পালিয়ে যাওয়া সিরিয়ার সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়ে এবার সরাসরি বৈরুতের সঙ্গে যোগাযোগে গেছে দামেস্ক। সিরীয় কর্তৃপক্ষ লেবাননের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে দুই শতাধিক সাবেক কর্মকর্তার তথ্য চেয়ে তাদের হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈরুতে গোপন বৈঠক
গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বৈরুতে লেবাননের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিরিয়ার জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আবদুল রহমান আল-দাব্বাগ। ওই বৈঠকে লেবাননে অবস্থানরত আসাদ-যুগের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তুলে ধরা হয়। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল তাদের অবস্থান, আইনি মর্যাদা এবং ভবিষ্যতে বিচার বা সিরিয়ায় ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য পথ খোঁজা।
নতুন সরকারকে দুর্বল করার অভিযোগ
সিরীয় সূত্রগুলোর দাবি, লেবানন ও সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে আলাউইত সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠনের চেষ্টা চলছে। এতে অর্থায়নের পেছনে রয়েছেন আসাদ পরিবারের ঘনিষ্ঠ ও সাবেক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। নতুন সিরীয় সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্দখলের লক্ষ্যেই এসব তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লেবাননের অবস্থান
লেবাননের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে তারা কিছু নামের তালিকা পেয়েছেন। তবে তাদের দাবি, এসব নামের বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমেও কোনো অনুরোধ আসেনি। ফলে আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
রাজনৈতিক বার্তা ও সতর্ক সংকেত
বৈঠকের সময় সিরীয় প্রতিনিধি দলের একটি প্রকাশ্য উপস্থিতি লেবাননের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এটি বোঝাতে চাওয়া হয়েছে যে লেবানন আর আগের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থল নয়। একই সঙ্গে লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বও সিরিয়ার স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে পারে এমন যেকোনো তৎপরতা ঠেকানোর কথা বলেছে।

সমন্বয় অব্যাহত
লেবাননের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালানো হলেও এখনো আসাদ-যুগের কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে সিরিয়ার সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















