ব্রাজিলের বেলেম শহরে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন সিওপি ত্রিশ শেষ হয়েছে আফ্রিকার জন্য মিশ্র ফল নিয়ে। অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি চূড়ান্ত নথিতে জায়গা পেলেও, বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে রয়ে গেছে বড় প্রশ্ন। জলবায়ু সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আফ্রিকা আবারও দেখল প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু নিশ্চয়তা কম।
সম্মেলনের প্রতীকী বার্তা ও বাস্তবতা
সিওপি চলাকালীন আফ্রিকা প্যাভিলিয়নে অগ্নিকাণ্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের প্যাভিলিয়নে হঠাৎ বন্যা যেন জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রতীকী সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে। গত দুই দশকে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চল্লিশ শতাংশ, যার সিংহভাগই আফ্রিকার মানুষ। তবু আলোচনার টেবিলে আবারও জীবাশ্ম জ্বালানি কমানোর ভাষা নিয়ে অচলাবস্থা এবং অর্থায়নের প্রতিশ্রুতির অস্পষ্টতা চোখে পড়ে।

বন সংরক্ষণে বড় স্বপ্ন, ছোট অগ্রগতি
আমাজনে সম্মেলন হওয়ায় বন উজাড়ের প্রশ্ন এবার কেন্দ্রে উঠে আসে। ব্রাজিলের প্রস্তাবিত ট্রপিক্যাল ফরেস্টস ফরএভার ফ্যাসিলিটি উদ্যোগটি নিয়ে আলোচনায় বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এই তহবিলের লক্ষ্য বন সংরক্ষণে সফল দেশ ও বন নির্ভর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া। কঙ্গো অববাহিকার ঘন বনভূমি, যা পৃথিবীর অন্যতম বড় কার্বন শোষক, এই উদ্যোগের বড় উপকারভোগী হতে পারত।
কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থ এসেছে খুবই সীমিত। লক্ষ্যমাত্রা যেখানে ছিল বিপুল তহবিল গড়ে তোলা, সেখানে সম্মেলন শেষে ঘোষিত অঙ্ক তার অনেক নিচে। জার্মানির বড় অঙ্গীকার কিছুটা আশার আলো দেখালেও, পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এখনো অধরাই।

অভিযোজন অর্থায়নে আংশিক সাফল্য
সিওপি ত্রিশে সবচেয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসে অভিযোজন অর্থায়নের ক্ষেত্রে। চূড়ান্ত ঘোষণায় দুই হাজার পঁয়ত্রিশ সালের মধ্যে অভিযোজন অর্থায়ন অন্তত তিন গুণ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। আফ্রিকার দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো চেয়েছিল আরও দ্রুত সময়সীমা, ফলে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সমঝোতার ফল বলছেন। তবু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এটি একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের পথে আফ্রিকার চ্যালেঞ্জ
আলোচনায় উঠে আসে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার কথা। আফ্রিকান দেশগুলো বুঝতে শুরু করেছে যে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত না করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন। কার্বন বাজার, টেকসই বন্ড, জলবায়ু সহনশীলতা ভিত্তিক ঋণ এবং ঋণ বিনিময়ের নতুন ধারণা ভবিষ্যতে অর্থায়নের পথ খুলতে পারে।
সিওপি ত্রিশ আফ্রিকার জন্য একদিকে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলে অন্যদিকে দেখিয়ে দিল, প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের মাঝের দূরত্ব এখনো বড়। আগামী বছরগুলোতে সেই ব্যবধান কমানোই হবে মহাদেশটির সবচেয়ে বড় লড়াই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















