জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কোনো পরিকল্পনা নেই। একটি উচ্চপর্যায়ের খ্রিস্টান প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এ কথা জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মার্থা দাশ, বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ, টিচার ফর পাস্টর ইন বাংলাদেশের সাবেক আইনপ্রণেতা ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটসহ অন্যরা।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকে ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র। এখানে সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সব সময় অবস্থান নিয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্থা দাশ। তিনি জানান, জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তারা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না। বিষয়টিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আশাব্যঞ্জক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আমির সংখ্যালঘুদের নিজেদেরকে সংখ্যালঘু ভাবনায় সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ছোট ছোট সম্প্রদায়কে সন্তানের মতো আগলে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ বলেন, বাংলাদেশের খ্রিস্টান নাগরিক হিসেবে তারা একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ দেখতে চান।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুরও উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















