১২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
কমনওয়েলথে সোনা জয়ের স্বপ্নে ভারতের প্রথম নারী সেনা বক্সার জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নতুন ব্রিটিশ সরকার: প্রথম দিনেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বিকাশ-নগদ-রকেটের অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে হাইকোর্টের রুল নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সরকারি চিঠিতে লোগো ব্যবহারের নির্দেশ, চলবে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে আলাদা করে তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ভেতরে বাসের ধাক্কা, পথচারী নিহত ফেনীর সীমান্তে চারজনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা, বিএসএফকে বিজিবির কড়া প্রতিবাদ ঢাকাবাসীকে সিআইএমএসে নিবন্ধনের আহ্বান, নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের নতুন উদ্যোগ চট্টগ্রামে চাঁদার ২০ লাখ টাকা দাবি, ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা কুষ্টিয়ায় মহিষ বিক্রির টাকা নিয়ে বাবাকে টর্চলাইট দিয়ে আঘাত, ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

নির্বাচনকে সামনে রেখেই ভিসা স্থগিত নীতি, জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা বিবেচনায় ভিসা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ভিসা দেওয়া বন্ধ করেনি; বরং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিসা নীতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় বিদেশ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি হঠাৎ দেশে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সরকার সতর্ক রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বুধবার মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যাঁরা বৈধ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসতে চান, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন যথাযথ হলে ভিসা দেওয়া হবে। ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি—এমন খবরের ব্যাখ্যা দিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী কর্মসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা উদ্বেগ
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন ঘিরে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। এই সময়ে কিছু অবাঞ্ছিত ব্যক্তি দেশে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সে কারণেই সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলার জন্য উপযুক্ত হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছে।

ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সাময়িক স্থগিত
এরই মধ্যে ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব যোগ্য দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এ তালিকায় ভুটানও রয়েছে। ঢাকার এই সিদ্ধান্তের কথা থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর ভুটান সরকার তাদের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা থাকলে যেন আগেভাগেই থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়। সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত সচিবের বক্তব্য অপ্রত্যাশিত: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

ভারতের মিশনে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ
এর আগে, গত ৮ জানুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে সাময়িকভাবে ভিসা শাখা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে সময় তিনি বলেন, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি এবং দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে সরকার নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বৈধ ও স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম যেন অযথা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কমনওয়েলথে সোনা জয়ের স্বপ্নে ভারতের প্রথম নারী সেনা বক্সার জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া

নির্বাচনকে সামনে রেখেই ভিসা স্থগিত নীতি, জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১১:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা বিবেচনায় ভিসা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ভিসা দেওয়া বন্ধ করেনি; বরং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিসা নীতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় বিদেশ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি হঠাৎ দেশে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সরকার সতর্ক রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বুধবার মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যাঁরা বৈধ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসতে চান, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন যথাযথ হলে ভিসা দেওয়া হবে। ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি—এমন খবরের ব্যাখ্যা দিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী কর্মসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা উদ্বেগ
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন ঘিরে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। এই সময়ে কিছু অবাঞ্ছিত ব্যক্তি দেশে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সে কারণেই সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলার জন্য উপযুক্ত হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছে।

ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সাময়িক স্থগিত
এরই মধ্যে ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব যোগ্য দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এ তালিকায় ভুটানও রয়েছে। ঢাকার এই সিদ্ধান্তের কথা থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর ভুটান সরকার তাদের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা থাকলে যেন আগেভাগেই থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়। সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত সচিবের বক্তব্য অপ্রত্যাশিত: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

ভারতের মিশনে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ
এর আগে, গত ৮ জানুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে সাময়িকভাবে ভিসা শাখা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে সময় তিনি বলেন, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি এবং দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে সরকার নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বৈধ ও স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম যেন অযথা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সচেষ্ট রয়েছে।