০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

নির্বাচনকে সামনে রেখেই ভিসা স্থগিত নীতি, জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা বিবেচনায় ভিসা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ভিসা দেওয়া বন্ধ করেনি; বরং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিসা নীতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় বিদেশ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি হঠাৎ দেশে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সরকার সতর্ক রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বুধবার মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যাঁরা বৈধ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসতে চান, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন যথাযথ হলে ভিসা দেওয়া হবে। ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি—এমন খবরের ব্যাখ্যা দিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী কর্মসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা উদ্বেগ
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন ঘিরে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। এই সময়ে কিছু অবাঞ্ছিত ব্যক্তি দেশে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সে কারণেই সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলার জন্য উপযুক্ত হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছে।

ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সাময়িক স্থগিত
এরই মধ্যে ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব যোগ্য দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এ তালিকায় ভুটানও রয়েছে। ঢাকার এই সিদ্ধান্তের কথা থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর ভুটান সরকার তাদের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা থাকলে যেন আগেভাগেই থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়। সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত সচিবের বক্তব্য অপ্রত্যাশিত: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

ভারতের মিশনে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ
এর আগে, গত ৮ জানুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে সাময়িকভাবে ভিসা শাখা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে সময় তিনি বলেন, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি এবং দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে সরকার নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বৈধ ও স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম যেন অযথা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

নির্বাচনকে সামনে রেখেই ভিসা স্থগিত নীতি, জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১১:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা বিবেচনায় ভিসা সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ভিসা দেওয়া বন্ধ করেনি; বরং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিসা নীতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় বিদেশ থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি হঠাৎ দেশে প্রবেশ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সরকার সতর্ক রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বুধবার মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যাঁরা বৈধ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসতে চান, তাঁরা নিয়ম অনুযায়ী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন যথাযথ হলে ভিসা দেওয়া হবে। ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি—এমন খবরের ব্যাখ্যা দিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী কর্মসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা উদ্বেগ
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন ঘিরে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা দেখা যায়। এই সময়ে কিছু অবাঞ্ছিত ব্যক্তি দেশে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সে কারণেই সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কথা বলার জন্য উপযুক্ত হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছে।

ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সাময়িক স্থগিত
এরই মধ্যে ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব যোগ্য দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এ তালিকায় ভুটানও রয়েছে। ঢাকার এই সিদ্ধান্তের কথা থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর ভুটান সরকার তাদের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা থাকলে যেন আগেভাগেই থিম্পুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করা হয়। সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত সচিবের বক্তব্য অপ্রত্যাশিত: পররাষ্ট্র  উপদেষ্টা

ভারতের মিশনে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ
এর আগে, গত ৮ জানুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে সাময়িকভাবে ভিসা শাখা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে সময় তিনি বলেন, এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি এবং দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে সরকার নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বৈধ ও স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম যেন অযথা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সচেষ্ট রয়েছে।