০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায় অর্থোপেডিক সার্জনদের ৫ অভ্যাস: বয়স বাড়লেও কীভাবে থাকবেন শক্তিশালী ও সচল নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, কম্পন অনুভূত দিল্লি-কাশ্মীর-পাকিস্তানেও নতুন রহস্যময় পোস্টে মাহফুজ আলমের সতর্কবার্তা: ‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’ নানা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিকম্পের পর জাপানে দুই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ল ভূমিধসের শঙ্কা নদীতে সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার গুজব, তথ্য ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড: ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা গণনা, ছাড়িয়ে গেল আগের সব হিসাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

পান্ডার মতো রঙের নতুন সামুদ্রিক প্রাণী, ওয়াকায়ামায় আবিষ্কারে পর্যটন আশার আলো

জাপানের ওয়াকায়ামা প্রদেশের শীরাহামা উপকূলে পান্ডার মতো কালো-সাদা রঙের দুটি নতুন সামুদ্রিক প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। ছোট আকারের এই প্রাণীগুলো অ্যাম্ফিপড শ্রেণির, দেখতে অনেকটা চিংড়ির মতো। গবেষকদের দাবি, পৃথিবীতে এই দুই প্রজাতির অস্তিত্ব আগে কখনও নথিভুক্ত হয়নি।

নতুন প্রজাতির পরিচয় ও নামকরণ

হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শীরাহামা উপকূলে পাওয়া প্রথম কালো-সাদা অ্যাম্ফিপ্রোটিক নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করে। শারীরিক গঠন ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর নাম দেওয়া হয় মেলিটা পান্ডা। প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ থেকে আট মিলিমিটার।

এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একই গবেষক দল আরেকটি অ্যাম্ফিপডকে ভিন্ন একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রজাতিটির কালো-সাদা রঙ আরও স্পষ্ট হওয়ায় একে পান্ডার সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়। এর নাম রাখা হয় মেলিটা পান্ডিনা। এই প্রজাতির দৈর্ঘ্য পাঁচ থেকে দশ মিলিমিটার এবং এরা বালুময় উপকূলে পাথরের নিচে বসবাস করে।

বিরল সামুদ্রিক প্রাণী দেখতে এলিয়েনের মত | Oceantimesbd.com

রঙের রহস্য ও বিবর্তনের ব্যাখ্যা

গবেষকদের মতে, কালো-সাদা রঙ এই ক্ষুদ্র প্রাণীগুলোর আত্মরক্ষার একটি কৌশল হতে পারে। ছোট মাছের মতো শিকারিরা যাতে সহজে চিনে ফেলতে না পারে, সে জন্যই এই বিশেষ রঙের নকশা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও দেখতে প্রায় একই রকম, জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে দুই প্রজাতির পূর্বপুরুষ ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যায় বিবর্তনীয় সমাপতনের কথা বলছেন, যেখানে ভিন্ন প্রজাতি একই পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে দেখতে একরকম হয়ে ওঠে।

গবেষকদের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তোমিকাওয়া কো জানান, কেন এই প্রাণীগুলোর এমন কালো-সাদা রঙ তৈরি হয়েছে তা জানতে গবেষণা চলবে। তাঁর আশা, নামের মাধ্যমে মানুষ এই প্রাণীগুলোর প্রতি আগ্রহী হবে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।

বিরল সামুদ্রিক প্রাণী দেখতে এলিয়েনের মত | Oceantimesbd.com

পর্যটন সম্ভাবনায় নতুন ভরসা

ওয়াকায়ামায় এরই মধ্যে এই আবিষ্কার কে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। গত বছর অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ডে লালিত চারটি দৈত্যাকার পান্ডা চীনে ফেরত যাওয়ার পর এলাকায় পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। নতুন এই পান্ডা-নামধারী সামুদ্রিক প্রাণী গুলো সেই শূন্যতা আংশিকভাবে পূরণ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী সুসামি শহরের ক্রাস্টেশিয়ান অ্যাকোয়ারিয়াম চলতি বছরের শেষ নাগাদ মেলিটা পান্ডা ও মেলিটা পান্ডিনা প্রদর্শনের পরিকল্পনা নিয়েছে। অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রধান আতসুশি হিরাই জানান, পান্ডা নামটি ওয়াকায়ামার মানুষের কাছে খুব পরিচিত, তাই এই নাম দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে বলে তিনি আশাবাদী। যদিও তাঁর স্বীকারোক্তি, জনপ্রিয়তায় তারা হয়তো দৈত্যাকার পান্ডার সমকক্ষ হবে না, তবু নতুন এই সামুদ্রিক প্রাণী গুলো অঞ্চলটির জন্য এক নতুন পরিচয় তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায়

পান্ডার মতো রঙের নতুন সামুদ্রিক প্রাণী, ওয়াকায়ামায় আবিষ্কারে পর্যটন আশার আলো

০৩:২১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

জাপানের ওয়াকায়ামা প্রদেশের শীরাহামা উপকূলে পান্ডার মতো কালো-সাদা রঙের দুটি নতুন সামুদ্রিক প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। ছোট আকারের এই প্রাণীগুলো অ্যাম্ফিপড শ্রেণির, দেখতে অনেকটা চিংড়ির মতো। গবেষকদের দাবি, পৃথিবীতে এই দুই প্রজাতির অস্তিত্ব আগে কখনও নথিভুক্ত হয়নি।

নতুন প্রজাতির পরিচয় ও নামকরণ

হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শীরাহামা উপকূলে পাওয়া প্রথম কালো-সাদা অ্যাম্ফিপ্রোটিক নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করে। শারীরিক গঠন ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর নাম দেওয়া হয় মেলিটা পান্ডা। প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ থেকে আট মিলিমিটার।

এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একই গবেষক দল আরেকটি অ্যাম্ফিপডকে ভিন্ন একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রজাতিটির কালো-সাদা রঙ আরও স্পষ্ট হওয়ায় একে পান্ডার সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়। এর নাম রাখা হয় মেলিটা পান্ডিনা। এই প্রজাতির দৈর্ঘ্য পাঁচ থেকে দশ মিলিমিটার এবং এরা বালুময় উপকূলে পাথরের নিচে বসবাস করে।

বিরল সামুদ্রিক প্রাণী দেখতে এলিয়েনের মত | Oceantimesbd.com

রঙের রহস্য ও বিবর্তনের ব্যাখ্যা

গবেষকদের মতে, কালো-সাদা রঙ এই ক্ষুদ্র প্রাণীগুলোর আত্মরক্ষার একটি কৌশল হতে পারে। ছোট মাছের মতো শিকারিরা যাতে সহজে চিনে ফেলতে না পারে, সে জন্যই এই বিশেষ রঙের নকশা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও দেখতে প্রায় একই রকম, জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে দুই প্রজাতির পূর্বপুরুষ ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যায় বিবর্তনীয় সমাপতনের কথা বলছেন, যেখানে ভিন্ন প্রজাতি একই পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে দেখতে একরকম হয়ে ওঠে।

গবেষকদের আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তোমিকাওয়া কো জানান, কেন এই প্রাণীগুলোর এমন কালো-সাদা রঙ তৈরি হয়েছে তা জানতে গবেষণা চলবে। তাঁর আশা, নামের মাধ্যমে মানুষ এই প্রাণীগুলোর প্রতি আগ্রহী হবে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।

বিরল সামুদ্রিক প্রাণী দেখতে এলিয়েনের মত | Oceantimesbd.com

পর্যটন সম্ভাবনায় নতুন ভরসা

ওয়াকায়ামায় এরই মধ্যে এই আবিষ্কার কে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। গত বছর অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ডে লালিত চারটি দৈত্যাকার পান্ডা চীনে ফেরত যাওয়ার পর এলাকায় পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। নতুন এই পান্ডা-নামধারী সামুদ্রিক প্রাণী গুলো সেই শূন্যতা আংশিকভাবে পূরণ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী সুসামি শহরের ক্রাস্টেশিয়ান অ্যাকোয়ারিয়াম চলতি বছরের শেষ নাগাদ মেলিটা পান্ডা ও মেলিটা পান্ডিনা প্রদর্শনের পরিকল্পনা নিয়েছে। অ্যাকোয়ারিয়ামের প্রধান আতসুশি হিরাই জানান, পান্ডা নামটি ওয়াকায়ামার মানুষের কাছে খুব পরিচিত, তাই এই নাম দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে বলে তিনি আশাবাদী। যদিও তাঁর স্বীকারোক্তি, জনপ্রিয়তায় তারা হয়তো দৈত্যাকার পান্ডার সমকক্ষ হবে না, তবু নতুন এই সামুদ্রিক প্রাণী গুলো অঞ্চলটির জন্য এক নতুন পরিচয় তৈরি করতে পারে।