ডিজিটাল আলো, ইলেকট্রনিক সুর আর বৌদ্ধ মন্ত্রের মেলবন্ধনে জাপানে নতুন এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার জন্ম দিচ্ছে সাইবার নমু নমু। ধর্মীয় আচার আর ক্লাব সংস্কৃতির মাঝামাঝি অবস্থান করা এই পরিবেশনা একদিকে কনসার্ট, অন্যদিকে শিল্প প্রদর্শনী। দর্শক এখানে শুধু শোনে না, অনুভব করে।
বিষণ্নতা থেকে সৃষ্টির পথে যাত্রা
সাইবার নমু নমুর যাত্রা শুরু দুই হাজার আঠারো সালে। প্রতিষ্ঠাতা মাদোকা কোহ্নো তখন গভীর বিষন্নতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। একদিন অনলাইনে ত্রিমাত্রিক আলো ও সুরে সাজানো এক বৌদ্ধ স্মরণানুষ্ঠানে ভিডিও দেখে তিনি এক অদ্ভুত স্বস্তি অনুভব করেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অনুপ্রাণিত করে অন্যদের জন্যও এমন আরাম ও সংযোগের পথ তৈরি করতে।
মন্ত্র, সুর ও আলোর সম্মিলন
এই প্রকল্পে মাদোকা কোহ্নোর সঙ্গে মঞ্চে থাকেন দুই বৌদ্ধ পুরোহিতা আওরিন ও মিকো। একজন কণ্ঠে মন্ত্র পাঠ করেন, অন্য জন স্যাক্সোফোনে সুর তোলেন। বিশুদ্ধ ভূমি বৌদ্ধ ধারার এই পুরোহিতরা আধুনিক জীবন যাপনের মধ্যেই আচার পালনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। পরিবেশনার সময় পেছনের পর্দায় ভেসে ওঠে ডিজিটাল মণ্ডল, শহরের ত্রিমাত্রিক দৃশ্য আর আলোছায়ার ছন্দ, যা সুরের সঙ্গে বদলে যায়।
দর্শকের নিজের মতো অনুভব
মঞ্চে কোহ্নো কখনো যন্ত্র আর দৃশ্য নিয়ন্ত্রণ করেন, আবার কখনো দর্শকদের সঙ্গে রসিকতায় মেতে ওঠেন। কেউ নাচে, কেউ চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট অনুভূতি চাপিয়ে দেওয়া হয় না। কোহ্নোর বিশ্বাস, এই স্বাধীনতাই সাইবার নমু নমুর শক্তি।
আধুনিক জীবনের চাপ ও বৌদ্ধ ভাবনা
কোহ্নো বলেন, কেন এই সুর ও দৃশ্য তার মনে আরাম আনে, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে এই অভিজ্ঞতা তাকে সমাজে ফিরতে সাহায্য করেছে। তিনি মনে করেন, বৌদ্ধ দর্শনের অনিত্যতা আর পারস্পরিক নির্ভরতার ধারণা আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে মানুষকে ভয় কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবু তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন কোনো মতবাদ গড়াই তার উদ্দেশ্য নয়।

তরুণ থেকে প্রবীণ সবার মিলন
জাপানে যেখানে বৌদ্ধ আচার এখন অনেকের কাছে শুধু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সেখানে সাইবার নমু নমু ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। সংগীত স্থলে আসে তরুণ থেকে মধ্যবয়সী মানুষ, মন্দিরে পরিবেশনায় একসঙ্গে জড়ো হয় তিন প্রজন্মের পরিবার। কারও মুখে শোনা যায় একটাই কথা, মনটা শান্ত লাগছে।
সামনে নতুন পরিবেশনা
আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে টোকিওর এক অডিও ভিজুয়াল শিল্প অনুষ্ঠানে অংশ নেবে সাইবার নমু নমু। সুর, আলো আর ধ্যানের এই যাত্রা যে আরও বহু মানুষের মনে ছোঁয়া দেবে, তা বিশ্বাস করেন কোহ্নো নিজেও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















