০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতির পরেও বিপিএল স্থগিত, স্টেডিয়াম ভাংচুর- দিনভর যা ঘটলো সেনাবাহিনী প্রধান কর্তৃক বিএনসিসির বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিং—২০২৫/২৬ এর সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন তাড়াহুড়োতেই আমি ভুল করি, তবু মানুষই আমার শক্তি: দুবাইয়ে খোলামেলা মোহাম্মদ আলাব্বার মিচেলের ব্যাটে রাজকোটে ঘুরে দাঁড়াল নিউজিল্যান্ড, সিরিজে সমতা লেবু ঘাস কি ক্যানসারের নতুন প্রাকৃতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞান কী বলছে ইরানের বিক্ষোভ দমনে বিপ্লবী গার্ডের ছায়া, ক্ষমতার শেষ দুর্গে কড়া নজর ইরান ঘিরে উত্তেজনা তীব্র,মধ্যপ্রাচ্যে ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা সরাল যুক্তরাষ্ট্র গাজা যুদ্ধের ছায়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিক্ষোভ দমনে ড্রোন নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় দমননীতি গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও প্রতিদিন প্রাণ ঝরছে শিশুদের

ইরানে বিক্ষোভ দমনে ড্রোন নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় দমননীতি

ইরানের বিভিন্ন শহরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সম্পূর্ণ নতুন ও কঠোর কৌশল নিয়েছে তেহরান। এই কৌশলে একসঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, মানসিক ভয় সৃষ্টি এবং দ্রুত সহিংস অভিযান। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি রাষ্ট্র এখন অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে আর বিচ্ছিন্ন অসন্তোষ হিসেবে দেখছে না, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতেরই একটি ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

তেহরানের সাদাত আবাদ স্কয়ারে বিক্ষোভের সময় গাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জানুয়ারির দশ তারিখ থেকে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই তীব্র আকার নেয়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের পরিচিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সরকার সমন্বিত এক দমন অভিযান শুরু করে, যেখানে প্রযুক্তি ও ভয়কে অস্ত্র বানানো হয়েছে।

নজরদারি ও ভয়ের পরিবেশ

A member of the Iranian police observes a pro-government rally held in Tehran on January 12, as the country entered a third week of nationwide anti-regime protests.

এই দমননীতির কেন্দ্রে রয়েছে নজরদারি। শুধু রাস্তায় নয়, নিজ নিজ বাসায় থাকা নাগরিকদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বাড়ির ভেতর থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অ্যাপার্টমেন্টের জানালার বাইরে ড্রোন ওড়ানো হয়। পুলিশের প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোনের মাধ্যমে শব্দ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী দরজায় সতর্কবার্তা লাগাচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। ভিডিওর বার্তায় স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে—সবকিছুই নজরদারির আওতায়।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার কৌশল

নজরদারির পাশাপাশি দেশজুড়ে কঠোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হয়। ইরানের ইতিহাসে এটি অন্যতম কঠিন ইন্টারনেট বন্ধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এড়াতে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থাও বিশেষ সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্যাম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই প্রযুক্তি সাধারণ নজরদারি নয়, বরং যুদ্ধ পর্যায়ের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

এর আগেও জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও নারী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। তবে এবারের পদক্ষেপ ছিল অনেক দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় এবং বিস্তৃত।

Body bags outside Kahrizak Forensic Medical Centre in Tehran, Iran, in this screen capture from a video obtained from social media filed on January 11.

বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ প্রাণহানির আশঙ্কা

দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ জানুয়ারির দশ তারিখে চরমে পৌঁছায়, যখন অনেক এলাকায় সহিংস সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকার উৎখাতের দাবি ওঠে। পরবর্তী প্রায় তিন দিনের দমন অভিযানে বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, নিহতরা বিদেশ সমর্থিত দাঙ্গাকারী।

পরবর্তী পরিস্থিতি কী

বিক্ষোভ পুরোপুরি থেমে গেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের আবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এর ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

This is the playbook the Iranian regime uses to crack down on protests –  but will it work this time?

 

Drones, automation and speed: How Iran's new playbook is crushing protests

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নাজমুল ইসলামকে অব্যাহতির পরেও বিপিএল স্থগিত, স্টেডিয়াম ভাংচুর- দিনভর যা ঘটলো

ইরানে বিক্ষোভ দমনে ড্রোন নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় দমননীতি

০৬:০৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের বিভিন্ন শহরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সম্পূর্ণ নতুন ও কঠোর কৌশল নিয়েছে তেহরান। এই কৌশলে একসঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, মানসিক ভয় সৃষ্টি এবং দ্রুত সহিংস অভিযান। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি রাষ্ট্র এখন অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে আর বিচ্ছিন্ন অসন্তোষ হিসেবে দেখছে না, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতেরই একটি ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

তেহরানের সাদাত আবাদ স্কয়ারে বিক্ষোভের সময় গাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জানুয়ারির দশ তারিখ থেকে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই তীব্র আকার নেয়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের পরিচিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সরকার সমন্বিত এক দমন অভিযান শুরু করে, যেখানে প্রযুক্তি ও ভয়কে অস্ত্র বানানো হয়েছে।

নজরদারি ও ভয়ের পরিবেশ

A member of the Iranian police observes a pro-government rally held in Tehran on January 12, as the country entered a third week of nationwide anti-regime protests.

এই দমননীতির কেন্দ্রে রয়েছে নজরদারি। শুধু রাস্তায় নয়, নিজ নিজ বাসায় থাকা নাগরিকদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বাড়ির ভেতর থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অ্যাপার্টমেন্টের জানালার বাইরে ড্রোন ওড়ানো হয়। পুলিশের প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোনের মাধ্যমে শব্দ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী দরজায় সতর্কবার্তা লাগাচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। ভিডিওর বার্তায় স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে—সবকিছুই নজরদারির আওতায়।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার কৌশল

নজরদারির পাশাপাশি দেশজুড়ে কঠোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা আরোপ করা হয়। ইরানের ইতিহাসে এটি অন্যতম কঠিন ইন্টারনেট বন্ধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এড়াতে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থাও বিশেষ সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্যাম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই প্রযুক্তি সাধারণ নজরদারি নয়, বরং যুদ্ধ পর্যায়ের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

এর আগেও জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও নারী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। তবে এবারের পদক্ষেপ ছিল অনেক দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় এবং বিস্তৃত।

Body bags outside Kahrizak Forensic Medical Centre in Tehran, Iran, in this screen capture from a video obtained from social media filed on January 11.

বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ প্রাণহানির আশঙ্কা

দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ জানুয়ারির দশ তারিখে চরমে পৌঁছায়, যখন অনেক এলাকায় সহিংস সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকার উৎখাতের দাবি ওঠে। পরবর্তী প্রায় তিন দিনের দমন অভিযানে বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, নিহতরা বিদেশ সমর্থিত দাঙ্গাকারী।

পরবর্তী পরিস্থিতি কী

বিক্ষোভ পুরোপুরি থেমে গেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের আবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এর ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

This is the playbook the Iranian regime uses to crack down on protests –  but will it work this time?

 

Drones, automation and speed: How Iran's new playbook is crushing protests