০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইউরোপের পেনশন খাতের ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা: অব্যবহৃত সম্পদে লুকিয়ে অর্থনীতির নতুন শক্তি মেধা পাচার নাকি নতুন বৈজ্ঞানিক মানচিত্র? গবেষণা তহবিল কমতেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা হলিউডে অর্ধশতকের সংগ্রাম শেষে তারকার মর্যাদা, শেরিল লি রালফের অনুপ্রেরণার গল্প ফর্মুলা ওয়ানে নতুন প্রজন্মের ঝড়, তরুণ দর্শক টানতে বদলে যাচ্ছে মোটর রেসিংয়ের দুনিয়া অস্কারের দৌড়ে অপ্রতিরোধ্য তেয়ানা টেইলর: অভিনয়, সংগীত ও পরিচালনায় এক সৃজনশীল বিস্ময় ইউরোপের প্রযুক্তিখাতে নতুন ভোর: বিনিয়োগ, প্রতিভা ও উদ্ভাবনে বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ ‘ধুরন্ধর ২’ পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হতে পারে—তবু চিন্তিত নন পরিচালক আদিত্য ধর জার্মানির শিল্পশক্তি ব্যাডেন-ভুর্টেমবার্গে নির্বাচনী আতঙ্ক, গাড়ি শিল্পের সংকটে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ঝড়ের ইঙ্গিত, শান্ত ঘোষণার আড়ালে বাড়ছে বড় সংকটের আশঙ্কা ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন শ্রেণি বিভাজন: মূলধারার দল ছেড়ে জনতার ঝোঁক নতুন শক্তির দিকে

গাজা যুদ্ধের ছায়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র

গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মিশর, জর্ডান ও লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল কেন্দ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

কেন এই সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের দাবি, মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু শাখা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মুখোশে কাজ করলেও বাস্তবে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আদর্শিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়। বিশেষ করে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে সামনে এনে এই তালিকাভুক্তি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশের পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

US labels Muslim Brotherhood groups in Egypt, Lebanon and Jordan terrorist  organizations

কোন কোন সংগঠন তালিকায়

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মিসর ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে লেবাননের আল জামা আল ইসলামিয়াকে আরও কঠোর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে সংগঠনের সদস্যদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠিন আইনি শাস্তির পথ খুলে গেছে।

গাজা যুদ্ধ ও কৌশলগত হিসাব

গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল বিরোধী শক্তিগুলোর একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে এবং মুসলিম ব্রাদারহুড সেই কাঠামোর ভেতরে প্রভাব বিস্তার করছে।

মুসলিম ব্রাদারহুড কীভাবে কাজ করে

US gives terrorist designation to Muslim Brotherhood in Egypt, Lebanon,  Jordan - France 24

উনিশশো আটাশ সালে মিশরের চিন্তাবিদ হাসান আল বান্নার হাতে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড কোনো একক কেন্দ্রীয় সংগঠন নয়। এটি মূলত অভিন্ন আদর্শে বিশ্বাসী, তবে স্থানীয়ভাবে স্বায়ত্তশাসিত শাখাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তারা রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও দাতব্য সংস্থা, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদভিত্তিক তৃণমূল সংগঠনের মাধ্যমে সক্রিয়।

আদর্শ নিয়ে বিতর্ক

মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে ইসলাম ও শাসন ব্যবস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। তারা পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী মূল্যবোধ ভিত্তিক সামাজিক সংস্কারের পক্ষে কথা বলে। সংগঠনটির দাবি, তারা সহিংস বিপ্লব নয় বরং ধাপে ধাপে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে বিশ্বাসী। তবে সমালোচকদের মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গিই পরোক্ষভাবে উগ্রপন্থা কে উৎসাহ দেয়।

US designates Muslim Brotherhood chapters in Egypt, Lebanon, Jordan as ' terrorists' - TRT World

আগেও নিষিদ্ধ করেছে যেসব দেশ

মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান এবং রাশিয়াসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সংগঠনটি সব সময়ই সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের কথা বলে আসছে।

Muslim Brotherhood branch in Egypt threatens Jordanian state - FDD's Long  War Journal

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের পেনশন খাতের ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা: অব্যবহৃত সম্পদে লুকিয়ে অর্থনীতির নতুন শক্তি

গাজা যুদ্ধের ছায়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র

০৬:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মিশর, জর্ডান ও লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল কেন্দ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

কেন এই সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের দাবি, মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু শাখা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মুখোশে কাজ করলেও বাস্তবে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আদর্শিক ও আর্থিক সহায়তা দেয়। বিশেষ করে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে সামনে এনে এই তালিকাভুক্তি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশের পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

US labels Muslim Brotherhood groups in Egypt, Lebanon and Jordan terrorist  organizations

কোন কোন সংগঠন তালিকায়

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মিসর ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে লেবাননের আল জামা আল ইসলামিয়াকে আরও কঠোর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে সংগঠনের সদস্যদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠিন আইনি শাস্তির পথ খুলে গেছে।

গাজা যুদ্ধ ও কৌশলগত হিসাব

গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল বিরোধী শক্তিগুলোর একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে এবং মুসলিম ব্রাদারহুড সেই কাঠামোর ভেতরে প্রভাব বিস্তার করছে।

মুসলিম ব্রাদারহুড কীভাবে কাজ করে

US gives terrorist designation to Muslim Brotherhood in Egypt, Lebanon,  Jordan - France 24

উনিশশো আটাশ সালে মিশরের চিন্তাবিদ হাসান আল বান্নার হাতে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড কোনো একক কেন্দ্রীয় সংগঠন নয়। এটি মূলত অভিন্ন আদর্শে বিশ্বাসী, তবে স্থানীয়ভাবে স্বায়ত্তশাসিত শাখাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তারা রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও দাতব্য সংস্থা, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদভিত্তিক তৃণমূল সংগঠনের মাধ্যমে সক্রিয়।

আদর্শ নিয়ে বিতর্ক

মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে ইসলাম ও শাসন ব্যবস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। তারা পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী মূল্যবোধ ভিত্তিক সামাজিক সংস্কারের পক্ষে কথা বলে। সংগঠনটির দাবি, তারা সহিংস বিপ্লব নয় বরং ধাপে ধাপে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে বিশ্বাসী। তবে সমালোচকদের মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গিই পরোক্ষভাবে উগ্রপন্থা কে উৎসাহ দেয়।

US designates Muslim Brotherhood chapters in Egypt, Lebanon, Jordan as ' terrorists' - TRT World

আগেও নিষিদ্ধ করেছে যেসব দেশ

মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান এবং রাশিয়াসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সংগঠনটি সব সময়ই সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের কথা বলে আসছে।

Muslim Brotherhood branch in Egypt threatens Jordanian state - FDD's Long  War Journal