ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় অঞ্চলজুড়ে অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা ও কর্মী প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপের পেছনে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ভেতরে চলমান নজিরবিহীন দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপট কাজ করছে।
হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বার্তা
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সেই সঙ্গে যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড থেকে আক্রমণের সুযোগ দেবে, তাদেরও সতর্ক করেছে তেহরান। একই সময়ে ওয়াশিংটনকে সংযত করতে আঞ্চলিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

কাতারের ঘাঁটিতে অবস্থান পরিবর্তন
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন কর্মীকে সরে যেতে বলা হয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি এবং এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর। ঘাঁটিতে প্রায় দশ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করে। সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, এটি পূর্ণাঙ্গ সরিয়ে নেওয়া নয়, বরং অবস্থান পরিবর্তন। নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
কাতারের আশ্বাস
কাতার সরকার জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণেই কিছু কর্মী সরানো হচ্ছে। তবে দেশটির নাগরিক, বাসিন্দা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনা সুরক্ষায় সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।
আগের ঘটনার প্রতিধ্বনি

এই পদক্ষেপ অনেকের কাছেই গত বছরের ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, যার মধ্যে বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও অন্তর্ভুক্ত।
অভ্যন্তরীণ দমন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দুই হাজার চারশোর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মধ্যেই ভারত তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















