ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সহিংস অভিযানে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, যা শাসক ব্যবস্থাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনী এখন সরকারের সবচেয়ে শক্ত ভরসা এবং শেষ প্রতিরক্ষাব্যূহ।
বিপ্লবের সন্তান, শাসনের রক্ষক
উনিশ শত ঊনআশি সালে ইসলামী বিপ্লবের পর ইসলামী ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে গঠিত হয় বিপ্লবী গার্ড। এই বাহিনী সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করে এবং প্রচলিত সেনাবাহিনীর বাইরে একটি আদর্শনির্ভর শক্তি হিসেবে কাজ করে। সামরিক ক্ষমতার সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্য মিলিয়ে তারা যে কোনো মূল্যে বর্তমান শাসন ব্যবস্থা রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

শক্তিশালী বাহিনী ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক
বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, বিপ্লবী গার্ডে দেড় থেকে দুই লাখ সদস্য রয়েছে। স্থল, নৌ ও আকাশ ইউনিট নিয়ে গঠিত এই বাহিনী ইরানের প্রচলিত সেনাবাহিনীর তুলনায় বেশি আধুনিক ও সুসজ্জিত। শুধু দেশের ভেতরে নয়, প্রতিবেশী অঞ্চলজুড়ে প্রভাব বিস্তারে এই বাহিনী মুখ্য ভূমিকা রাখে। লেবানন, ইরাক ও সিরিয়ার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সেতুও তারাই।
অর্থনীতি থেকে গোয়েন্দা নজরদারি
যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব বিস্তৃত। জ্বালানি, অবকাঠামো, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতে তাদের দখল দেশের রাজনীতিতে বিশাল প্রভাব সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তাদের গোয়েন্দা শাখাকে ইরানের সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে ধরা হয়। বিক্ষোভ সংগঠকদের দ্রুত শনাক্ত করা, নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং আন্দোলনের সমন্বয় নষ্ট করার সক্ষমতা তাদের হাতে।

রাস্তায় দমন, পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি মাঠে
রাজপথে দমন অভিযানে প্রায়ই ব্যবহার করা হয় বসিজ নামে পরিচিত আধা সামরিক বাহিনীকে, যার সদস্যসংখ্যা ছয় থেকে নয় লাখের মধ্যে বলে ধারণা। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, শুরুতে বিপ্লবী গার্ড পর্দার আড়াল থেকে দমন পরিচালনা করলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর তারা সরাসরি স্থলবাহিনী ও বিশেষ ইউনিট নামায়।
আন্তর্জাতিক চাপ ও বাড়তে থাকা আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপ্লবী গার্ড শাসকগোষ্ঠীর শেষ রক্ষাকবচে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ক্ষমতা ধরে রাখতে সামনে আরও কঠোর ও রক্তক্ষয়ী দমননীতি দেখা যেতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















