বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার
নতুন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বন্ধু বলতে গর্ববোধ করে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা রাখে।
পরিচয়পত্র পেশের পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তার জন্য সম্মানের। তিনি বলেন, গত পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করে আসছে—আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দুই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকায় আগমন ও ব্যক্তিগত অনুভূতি

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন তার স্ত্রী ডিয়েন দাওকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বহু স্মৃতিবহ এই দেশে আবার ফিরে আসতে পেরে তারা দুজনই আনন্দিত। বাংলাদেশে ফিরে আসাকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ সম্মানের বলে উল্লেখ করেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব
নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দিতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দূতাবাসের মার্কিন ও স্থানীয় কর্মীদের নিয়ে একটি দক্ষ দলের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন কাজ করবেন।
নিয়োগ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন দেয়। এর আগে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক উদ্যোগ তদারকি করেন।

দীর্ঘ কূটনৈতিক কর্মজীবন
একজন অভিজ্ঞ পররাষ্ট্র কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কমান্ডের কমান্ডারের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি ফিলিপাইন, এল সালভাদর ও ভিয়েতনামে মার্কিন মিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
দেশের ভেতরে তিনি রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়ক ব্যুরোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র স্থানান্তর দপ্তরের উপপরিচালক, উত্তর কোরিয়া নীতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির সহকারী এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশ ডেস্ক কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ভাষাজ্ঞান
জাতীয় যুদ্ধ কলেজের কৃতিত্বপূর্ণ স্নাতক রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় দক্ষ এবং ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষা অধ্যয়ন করেছেন।
কূটনৈতিক জীবনের আগে
২০০২ সালে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ও নিউইয়র্কে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















