দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচ হোটেলে আসন্ন আন্তর্জাতিক সংগীত আয়োজন গ্লোবাল ফিউশন দুই হাজার ছাব্বিশ ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আমিরাতি উদ শিল্পী আবদেল রহমান আল ব্লুশি। বিশ্বের নানা প্রান্তের গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে উঠে তিনি তুলে ধরছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংগীত ঐতিহ্য, যা কেবল লোকজ পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্ব সংলাপে সক্ষম এক জীবন্ত শিল্পধারা।
বিশ্ব সংগীতে আমিরাতি পরিচয়ের সেতুবন্ধন
আবদেল রহমান আল ব্লুশির ভাষায়, এমন বৈচিত্র্যময় শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া তার জন্য গভীর সম্মানের। তার মতে, এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে আমিরাতি সংগীত কেবল স্থানীয় স্মৃতি নয়, বরং এমন এক সুরভাষা যা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিল্পরীতির সঙ্গে সমানতালে কথা বলতে পারে। নিজের ভূমিকা তিনি দেখেন এক সাংস্কৃতিক সেতু নির্মাতা হিসেবে, যেখানে স্থানীয় আত্মা অক্ষুণ্ন রেখেই বৈশ্বিক সুরের সঙ্গে মিল খোঁজা যায়।
উদের ভাষায় গল্প বলা
আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেকে তিনি কেবল একজন পরিবেশক হিসেবে দেখেন না। বরং গল্পকারের ভূমিকা তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার বিশ্বাস, উদ কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, এটি ইতিহাসের কণ্ঠস্বর। প্রতিটি সুরে তিনি শব্দ ছাড়াই তুলে ধরেন মরুভূমির অনুভূতি, ভূখণ্ডের স্মৃতি ও মানুষের আবেগ।
শৈশব থেকে শৈল্পিক সাধনার পথ
শৈশব থেকেই উদের সুর তাকে আকর্ষণ করেছে। তিনি একে বলেন বাদ্যযন্ত্রের সুলতান। এর উষ্ণতা ও গভীর আবেগপ্রকাশের ক্ষমতাই তাকে এই যন্ত্রের দিকে টেনে এনেছে। শুরুতে আগ্রহ থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা পরিণত হয় শৃঙ্খলিত সাধনায়। দুই হাজার উনিশ সালে ফুজাইরাহ চারুকলা একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর তার সংগীতচর্চা পায় নতুন দিশা। সেখানে মৌলিক সংগীত জ্ঞান ও মাকাম সম্পর্কে গভীর অনুশীলন তাকে আরও পরিণত করে। এখনো নিজেকে তিনি একজন শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখেন, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

বিশ্ব শিল্পীদের সঙ্গে সংলাপের অভিজ্ঞতা
দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইরান ও ইউরোপের শিল্পীদের সঙ্গে মহড়া ও মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তার ভাবনাকে প্রসারিত করেছে। তিনি বুঝেছেন, সংগীত একটি সার্বজনীন ভাষা হলেও প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব উপভাষা রয়েছে। এই সংলাপ তাকে শিখিয়েছে নতুনভাবে শোনা ও অনুভব করা। উদ কীভাবে জ্যাজ ছন্দের সঙ্গে মিশে যেতে পারে কিংবা ভিন্ন স্কেলের সঙ্গে সুর মেলাতে পারে, তা আবিষ্কার করতে গিয়ে যন্ত্রটির নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলেছে।
নতুন প্রজন্মে আমিরাতি সংগীতের রূপান্তর
গত এক দশকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সৃজনশীল জগতে যে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে, তাকে তিনি এক নবজাগরণ হিসেবে দেখেন। তার মতে, তরুণ শিল্পীরা এখন বুঝতে পারছেন ঐতিহ্য পুরোনো নয়, বরং চিরকালীন। তাই সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন পরীক্ষার সাহস দেখা যাচ্ছে। এই ধারাই আমিরাতি সংগীতকে বিশ্ব দর্শকের কাছে আরও সহজলভ্য করে তুলছে।
![]()
তরুণদের প্রতি বার্তা
মঞ্চ থেকে তরুণ আমিরাতি সংগীতশিল্পীদের উদ্দেশে তার বার্তা স্পষ্ট। নিজের শিকড় নিয়ে গর্ব করতে হবে। বিশ্ব অন্যের অনুকরণ চায় না, চায় স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর ও সংস্কৃতির গল্প। দক্ষতা আর ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে কোনো মঞ্চই অধরা থাকে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















