০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

ড্রাগন নেই, তবু রক্ত-মাটিতে ভেজা বীরত্বের গল্প

উত্তর আয়ারল্যান্ডের এক উপত্যকায় কাদামাটির মাঠ। চকচকে বর্ম গায়ে এক নাইট মাথার ওপর ঘুরিয়ে আনছেন কাঁটাওয়ালা অস্ত্র। মুহূর্তের মধ্যেই আরেক নাইটের ঢালে আঘাত, কাঠের টুকরো উড়ে যাচ্ছে আকাশে। দূরে বসে থাকা অভিজাত দর্শকরা প্রায় উদাসীন। এই দৃশ্য কোনো মধ্যযুগীয় যুদ্ধ নয়, বরং এইচবিওর নতুন ধারাবাহিক ‘আ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’-এর শুটিং।

জর্জ আর আর মার্টিনের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ধারাবাহিকটি ওয়েস্টেরসের পরিচিত জগতেই, তবে পরিচিত কায়দায় নয়। রাজনীতি, রাজবংশ আর ড্রাগনের বিশাল ক্যানভাস থেকে সরে এসে গল্পটি এবার ছোট পরিসরে, এক মানুষের লড়াইকে সামনে এনেছে।

A man in a long cloak sits on horseback in a barren landscape.

ছয় পর্বের প্রথম মৌসুমে দেখা যাবে ডাঙ্ক নামের এক লম্বা-চওড়া তরুণের গল্প। নিজের গুরু স্যার আরলানের মৃত্যু পর তিনি নিজেকে নাইট হিসেবে দাবি করেন এবং নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করেন। পথে তাঁর সঙ্গী হয় নয় বছরের বালক এগ, যে তাঁর স্কোয়ার হিসেবে যুক্ত হলেও ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। হাস্যরস, বন্ধুত্ব আর হঠাৎ হিংস্রতার মিশেলে এগিয়ে চলে এই সম্পর্কের গল্প।

আগের ধারাবাহিকগুলোর মতো এখানে রাজ্যজয় বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নেই। নির্মাতা আইরা পার্কার একে বলছেন ওয়েস্টেরসের নিচু শ্রেণির মানুষের গল্প। ডাঙ্ক কোনো রাজপুত্র নয়, বরং সমাজের প্রান্ত থেকে উঠে আসা এক মানুষ। তাঁকে লড়তে হয় শত্রুর পাশাপাশি নিজের ভয় আর অনিশ্চয়তার সঙ্গেও। এক দৃশ্যে দর্শক দেখবেন, যুদ্ধের আগে ভয়ে বমি করছে সে।

A bald boy looks up at a large man wearing a shield on his back as a man in a backward blue cap, holding a tablet, looks on.

ড্রাগন না থাকলেও নির্মাতারা চেয়েছেন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে। কাদায় ভেজা মাঠ, ভারী বর্মের ভেতরে আটকে থাকা শ্বাস, কানে কিছু না শোনা, চোখের সামনে সীমিত দৃশ্য—সবকিছু ক্যামেরায় ধরা হয়েছে ডাঙ্কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এই লড়াইকে রূপ দিতে শুটিং সেটে বারবার পানি ঢেলে কাদা তৈরি করতে হয়েছে, এমনকি নকল রক্তে আকৃষ্ট হয়ে আসা বোলতার ঝাঁক সামলাতেও হিমশিম খেতে হয়েছে।

ডাঙ্ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ারল্যান্ডের সাবেক রাগবি খেলোয়াড় পিটার ক্ল্যাফি। দীর্ঘদেহী এই অভিনেতা নিজেও বাস্তব জীবনে উদ্বেগের সঙ্গে লড়াই করেছেন। থেরাপি আর চিকিৎসার সাহায্যে তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে এখন বড় চরিত্রে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে এগ চরিত্রে শিশু অভিনেতা ডেক্সটার সোল অ্যানসেল, যার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল মাথার চুল পুরো কামানো আর স্কুলের বন্ধুদের কাছে এর কারণ গোপন রাখা।

A bald boy is at the front of a tug of war team, pulling a rope.

এই ধারাবাহিকের শিকড় অনেক পুরোনো। নব্বইয়ের দশকে লেখা ‘দ্য হেজ নাইট’ গল্প থেকেই এর শুরু। এরপর আরও দুটি গল্প লিখেছেন মার্টিন, ভবিষ্যতে আরও লেখার ইচ্ছাও তাঁর। যদিও একসময় তিনি এই গল্প পর্দায় আনার আগ্রহ হারিয়েছিলেন, নির্মাতাদের প্রতিশ্রুতি আর সরাসরি যুক্ত থাকার শর্তে শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মতি দেন।

সব মিলিয়ে ‘আ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’ এক ভিন্ন স্বাদের যাত্রা। এখানে ঝলমলে রাজনীতি নেই, আছে সম্মান খোঁজার লড়াই, গুরু ও শিষ্যের সম্পর্ক, আর মানুষের ভেতরের সাহসের গল্প। নির্মাতাদের আশা, ড্রাগন ছাড়াও এই হৃদয়ভরা গল্প দর্শকদের মন জয় করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

ড্রাগন নেই, তবু রক্ত-মাটিতে ভেজা বীরত্বের গল্প

০১:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তর আয়ারল্যান্ডের এক উপত্যকায় কাদামাটির মাঠ। চকচকে বর্ম গায়ে এক নাইট মাথার ওপর ঘুরিয়ে আনছেন কাঁটাওয়ালা অস্ত্র। মুহূর্তের মধ্যেই আরেক নাইটের ঢালে আঘাত, কাঠের টুকরো উড়ে যাচ্ছে আকাশে। দূরে বসে থাকা অভিজাত দর্শকরা প্রায় উদাসীন। এই দৃশ্য কোনো মধ্যযুগীয় যুদ্ধ নয়, বরং এইচবিওর নতুন ধারাবাহিক ‘আ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’-এর শুটিং।

জর্জ আর আর মার্টিনের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই ধারাবাহিকটি ওয়েস্টেরসের পরিচিত জগতেই, তবে পরিচিত কায়দায় নয়। রাজনীতি, রাজবংশ আর ড্রাগনের বিশাল ক্যানভাস থেকে সরে এসে গল্পটি এবার ছোট পরিসরে, এক মানুষের লড়াইকে সামনে এনেছে।

A man in a long cloak sits on horseback in a barren landscape.

ছয় পর্বের প্রথম মৌসুমে দেখা যাবে ডাঙ্ক নামের এক লম্বা-চওড়া তরুণের গল্প। নিজের গুরু স্যার আরলানের মৃত্যু পর তিনি নিজেকে নাইট হিসেবে দাবি করেন এবং নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করেন। পথে তাঁর সঙ্গী হয় নয় বছরের বালক এগ, যে তাঁর স্কোয়ার হিসেবে যুক্ত হলেও ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। হাস্যরস, বন্ধুত্ব আর হঠাৎ হিংস্রতার মিশেলে এগিয়ে চলে এই সম্পর্কের গল্প।

আগের ধারাবাহিকগুলোর মতো এখানে রাজ্যজয় বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নেই। নির্মাতা আইরা পার্কার একে বলছেন ওয়েস্টেরসের নিচু শ্রেণির মানুষের গল্প। ডাঙ্ক কোনো রাজপুত্র নয়, বরং সমাজের প্রান্ত থেকে উঠে আসা এক মানুষ। তাঁকে লড়তে হয় শত্রুর পাশাপাশি নিজের ভয় আর অনিশ্চয়তার সঙ্গেও। এক দৃশ্যে দর্শক দেখবেন, যুদ্ধের আগে ভয়ে বমি করছে সে।

A bald boy looks up at a large man wearing a shield on his back as a man in a backward blue cap, holding a tablet, looks on.

ড্রাগন না থাকলেও নির্মাতারা চেয়েছেন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে। কাদায় ভেজা মাঠ, ভারী বর্মের ভেতরে আটকে থাকা শ্বাস, কানে কিছু না শোনা, চোখের সামনে সীমিত দৃশ্য—সবকিছু ক্যামেরায় ধরা হয়েছে ডাঙ্কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এই লড়াইকে রূপ দিতে শুটিং সেটে বারবার পানি ঢেলে কাদা তৈরি করতে হয়েছে, এমনকি নকল রক্তে আকৃষ্ট হয়ে আসা বোলতার ঝাঁক সামলাতেও হিমশিম খেতে হয়েছে।

ডাঙ্ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ারল্যান্ডের সাবেক রাগবি খেলোয়াড় পিটার ক্ল্যাফি। দীর্ঘদেহী এই অভিনেতা নিজেও বাস্তব জীবনে উদ্বেগের সঙ্গে লড়াই করেছেন। থেরাপি আর চিকিৎসার সাহায্যে তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে এখন বড় চরিত্রে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে এগ চরিত্রে শিশু অভিনেতা ডেক্সটার সোল অ্যানসেল, যার কাছে সবচেয়ে কঠিন ছিল মাথার চুল পুরো কামানো আর স্কুলের বন্ধুদের কাছে এর কারণ গোপন রাখা।

A bald boy is at the front of a tug of war team, pulling a rope.

এই ধারাবাহিকের শিকড় অনেক পুরোনো। নব্বইয়ের দশকে লেখা ‘দ্য হেজ নাইট’ গল্প থেকেই এর শুরু। এরপর আরও দুটি গল্প লিখেছেন মার্টিন, ভবিষ্যতে আরও লেখার ইচ্ছাও তাঁর। যদিও একসময় তিনি এই গল্প পর্দায় আনার আগ্রহ হারিয়েছিলেন, নির্মাতাদের প্রতিশ্রুতি আর সরাসরি যুক্ত থাকার শর্তে শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মতি দেন।

সব মিলিয়ে ‘আ নাইট অব দ্য সেভেন কিংডমস’ এক ভিন্ন স্বাদের যাত্রা। এখানে ঝলমলে রাজনীতি নেই, আছে সম্মান খোঁজার লড়াই, গুরু ও শিষ্যের সম্পর্ক, আর মানুষের ভেতরের সাহসের গল্প। নির্মাতাদের আশা, ড্রাগন ছাড়াও এই হৃদয়ভরা গল্প দর্শকদের মন জয় করবে।