বাংলা উপশিরোনাম ১ — জোড়া তারার বিস্ফোরণের নতুন ছবি
বিজ্ঞানীরা সিএইচএআরএ অ্যারে নামের টেলিস্কোপ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দুইটি নোভা বিস্ফোরণের অসাধারণ ছবি তুলেছেন, যা শ্বেত বামন তারাগুলোর সঙ্গী তারার কাছ থেকে পদার্থ চুষে নেওয়ার পরে ঘটে। এই বিস্ফোরণগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে সমান ধূলিমেঘের গোলকের মতো ভাবা হলেও ছবিতে দেখা গেছে অসমান গ্যাস‑ধুলোর জেট, যা দ্বৈত তারাদের কক্ষপথ বরাবর ছড়িয়ে পড়ছে। গবেষকরা দেখেছেন, পুরোনো নির্গমনকারী স্তরের সঙ্গে নতুন তরঙ্গের সংঘর্ষে শক তরঙ্গ সৃষ্টি হচ্ছে এবং নাসার ফের্মি টেলিস্কোপে শনাক্ত গামা রশ্মি সেই মুহূর্তেই উজ্জ্বল হচ্ছে। এ ধরনের ফলাফল নির্দেশ করে যে নোভা হলো জটিল মহাজাগতিক পরীক্ষাগার, যেখানে শক তরঙ্গ ও কণা ত্বরনের মতো মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষা করা যায়।
দুটি নোভার তুলনা করে বৈজ্ঞানিকরা বুঝেছেন যে এসব ঘটনা খুবই বৈচিত্র্যময় হতে পারে। ভি১৬৭৪ হারকিউলিস নামের নোভাটি দ্রুত ও খণ্ডিত ধাপে বিস্ফোরিত হয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষীণ হয়ে যায়, অথচ ভি১৪০৫ ক্যাসিওপিয়ার বাইরের স্তর ধীরগতিতে প্রসারিত হয়, যা তারাদের কাছাকাছি আসা এবং সম্ভাব্য “কমন এনভেলপ” পর্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত দেয়। এই ধীর বিবর্তন ভবিষ্যতে বড় বিস্ফোরণের পূর্বাভাস হতে পারে। ছয়টি টেলিস্কোপের সমন্বিত আয়নাটি কয়েকশ মিটার প্রস্থের একটি কাল্পনিক আয়নার মতো কাজ করে, ফলে কয়েন‑আকারের বৈশিষ্ট্য হাজার মাইল দূর থেকেও দেখা যায়। অপটিক্যাল ছবি এবং গামা রশ্মির তথ্য মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে প্রতিটি শক তরঙ্গ নতুন পদার্থ মহাকাশে নিক্ষেপ করে এবং কণাকে আলোর গতি কাছাকাছি ত্বরান্বিত করে।
বাংলা উপশিরোনাম ২ — নক্ষত্র বিবর্তন ও প্রয়োগমূলক গুরুত্ব
এই গবেষণা দেখিয়েছে যে উন্নত যন্ত্রপাতি ক্ষণস্থায়ী মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর বোঝাপড়া বদলে দিতে পারে। সাধারণ টেলিস্কোপ নোভার সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলোর ছবি ঝাপসা করে, কিন্তু একসঙ্গে কাজ করা ছয়টি ছোট টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বাস্তবে বিপুল আকারের একটি আয়না তৈরি করেছেন। পরিমাপগুলো থেকে তৈরি জটিল হস্তক্ষেপের প্যাটার্ন অ্যালগরিদম দিয়ে বিশ্লেষণ করে তাঁরা পরিষ্কার ছবি তৈরি করেন, যা আগে সম্ভব ছিল না। এই পদ্ধতি রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞানে ব্যবহৃত ইন্টারফেরোমেট্রির মতো, কিন্তু দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে নিকটবর্তী তারার ছোট ফ্লেয়ারও একইভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং কিভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র বিস্ফোরণে প্রভাব ফেলে তা বোঝা যাবে।
এই কাজের ফলাফল কেবল সুন্দর ছবি নয়, মহাবিশ্বের রসায়ন ও বিস্তার বোঝার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে উৎপন্ন নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের মতো মৌলগুলো ছড়িয়ে গ্যালাক্সিকে সমৃদ্ধ করে। গ্যাস ও ধুলোর ছড়িয়ে পড়া কেমন হয় তা বোঝা গেলে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির রাসায়নিক বিবর্তন ব্যাখ্যা করা সহজ হবে। শক তরঙ্গগুলো সুপারনোভা অবশিষ্টাংশ ও পৃথিবীর কণা ত্বরকেও দেখা বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল আছে, যা নির্দেশ করে যে একই মৌলিক নিয়ম ছোট ও বড় উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করে। গবেষকরা আশা করছেন, এই তথ্য সুদূর সুপারনোভা ও গামা‑রে বিস্ফোরণ বিশ্লেষণে ব্যবহৃত মডেলগুলোর উন্নয়নে সাহায্য করবে এবং মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ মাপতে আরও নির্ভুলতা আনবে। এই গবেষণায় নিয়মিত ও দ্রুত পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও ফুটে উঠেছে, কারণ নোভার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটে যেতে পারে, ফলে বিশ্বব্যাপী টেলিস্কোপের সমন্বয় প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















