বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যদি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে কি আইসিসি অন্য কোনও দলকে সুযোগ দেবে। এই প্রেক্ষিতে স্কটল্যান্ডের নাম সামনে এলেও, বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে আইসিসি এখনও পর্যন্ত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি।
বাংলাদেশের অনিশ্চয়তার পেছনের কারণ
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপড়েন থেকেই মূলত এই জটিলতার সৃষ্টি। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে দল পাঠাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। টুর্নামেন্টের জন্য নির্ধারিত মুম্বই ও কলকাতার ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাবও দেয়, কারণ আয়ারল্যান্ডের সব প্রাথমিক ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা। তবে আইসিসি এই দুই প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

স্কটল্যান্ড কি হতে পারে বদলি দল
বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি, অথচ বাংলাদেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। যদি তারা শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তাহলে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ডই হতে পারে পরবর্তী বিকল্প দল। তবে বিবিসি স্পোর্ট জানিয়েছে, আইসিসি এখনও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কোনও আলোচনা শুরু করেনি। একই সঙ্গে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চলমান পরিস্থিতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজে থেকে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে না।
স্কটল্যান্ডের সাম্প্রতিক অবস্থান
গত বছর ইউরোপীয় বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ড চতুর্থ স্থান অর্জন করায় তারা অল্পের জন্য বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি। ওই বাছাইয়ে নেদারল্যান্ডস ও ইতালি দুটি আসন পায়। বর্তমানে স্কটিশ ক্রিকেটাররা মার্চ মাসে নামিবিয়া ও ওমানের সঙ্গে উইন্ডহুকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একদিনের আন্তর্জাতিক ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আইসিসির বদলি দল বাছাইয়ের নজির
বিবিসি স্পোর্ট এ বিষয়ে আইসিসির কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছে। অতীতে, ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ালে, প্রাক-টুর্নামেন্ট বৈশ্বিক বাছাইয়ের ভিত্তিতে ‘পরবর্তী সেরা দল’ হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বাড়িয়ে ২০ করেছে এবং যোগ্যতা নির্ধারণ হচ্ছে আঞ্চলিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে। এই নতুন কাঠামোয় কোনও দল সরে দাঁড়ালে বদলি নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















