মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে মিশরের জ্বালানি বাজারে। আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশটির সরকার পেট্রোল, ডিজেল ও যানবাহনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতে নতুন করে চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা অস্বাভাবিক চাপে পড়েছে। তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়া, সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিমা খরচ বৃদ্ধির ফলে জ্বালানি পণ্যের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামও গত কয়েক দিনে বড় ওঠানামা করেছে। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৯ ডলার ছুঁয়ে গেলেও পরে তা নেমে প্রায় ৮৪ ডলারে আসে।
পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন মিশরীয় পাউন্ড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৫০ পাউন্ডে। আগে এর দাম ছিল ১৭ দশমিক ৫০ পাউন্ড।
৮০ অকটেন পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে লিটারপ্রতি ২০ দশমিক ৭৫ পাউন্ড। ৯২ অকটেন পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ২২ দশমিক ২৫ পাউন্ড।
আরও উন্নতমানের ৯৫ অকটেন পেট্রোলের দাম এখন লিটারপ্রতি ২৪ পাউন্ডে পৌঁছেছে।
যানবাহনের গ্যাসে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি
যানবাহনে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দামই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম এখন ১৩ পাউন্ড, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
আন্তর্জাতিক ঋণ কর্মসূচির চাপ
গত দুই বছরে মিশর চারবার জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আটশো কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার ধীরে ধীরে জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর নীতি অনুসরণ করছে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রায় ১৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধিকে অনেকেই শেষ ধাপ মনে করেছিলেন। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশা ভেঙে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















